উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, ভারি বৃষ্টিতে বন্যার আশঙ্কা; সতর্ক করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা জোরালো
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। দেশের সাতটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গত ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও প্রভাব
পাউবোর তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনা জেলার জারিয়াজঞ্জাইলে ৭৪ মিলিমিটার, হবিগঞ্জ-এ ৭৪ মিলিমিটার এবং চাঁদপুর-বাগান এলাকায় ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হাওর অঞ্চলের নদীগুলোর পানির স্তর দ্রুত বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষ করে হাওর বেসিন এলাকায় পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিপৎসীমার ওপরে নদীর পানি
সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী, হাওর বেসিনের তিনটি জেলার সাতটি নদীর আটটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
- সুনামগঞ্জ-এর নলজুর নদী ৪০ সেমি ওপরে (জগন্নাথপুর)
- নেত্রকোনা-এর ধনু-বাউলাই নদী ৮ সেমি ওপরে (জারিয়াজঞ্জাইল)
- সোমেশ্বরী নদী ৫০ সেমি ওপরে (কলমাকান্দা)
- ভুগাই-কংশ নদী ৬৭ সেমি ওপরে
- মগরা নদী ৭৯ সেমি ওপরে (নেত্রকোনা) ও ২৭ সেমি ওপরে (আটপাড়া)
- হবিগঞ্জ-এর কালনি নদী ১০ সেমি ওপরে (আজমিরিগঞ্জ)
- সুতাং নদী ৮৩ সেমি ওপরে (সুতাং রেলব্রিজ)
পানি বৃদ্ধির হার ঘণ্টায় ০ থেকে ১ সেন্টিমিটার হলেও এটি স্থায়ীভাবে বাড়তে থাকলে বন্যা পরিস্থিতি গুরুতর আকার নিতে পারে।
উজানের বৃষ্টিপাতের প্রভাব
বাংলাদেশের নদীগুলোর পানির উচ্চতা বৃদ্ধির পেছনে উজানের বৃষ্টিপাত বড় ভূমিকা রাখছে। ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বিশেষ করে চেরাপুঞ্জি-তে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা হাওর অঞ্চলের নদীগুলোর পানির স্তর বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি ও করণীয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে এবং উজান থেকে পানির চাপ বাড়ে, তাহলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে কৃষি, যোগাযোগ ও জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি
বর্তমান পরিস্থিতি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও দ্রুত অবনতি ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, হাওর অঞ্চলে স্বল্প সময়ের মধ্যে পানি বৃদ্ধি বড় ধরনের বন্যার কারণ হতে পারে।
তাই পাউবোর নির্দেশনা অনুসরণ করে নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
