নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে ১০ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।
১০ মামলায় আইভীর জামিন বহাল
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী-এর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১০ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। রোববার (১০ মে) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে আইভীর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
চুনকা কুটির থেকে গ্রেপ্তার
গত বছরের ৯ মে চুনকা কুটির থেকে ডা. আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
প্রথমদিকে পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সেই জামিন স্থগিত করেন। পরবর্তীতে মামলাগুলো নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হয়।
এরপর ১৮ নভেম্বর তাকে আরও পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এসব মামলাতেও তাকে জামিন দেন।
যেসব মামলায় জামিন
আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে কয়েকটি হত্যা মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
- ফতুল্লা থানা-এ করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা মামলা
- আব্দুর রহমান হত্যা মামলা
- মো. ইয়াছিন হত্যা মামলা
- পারভেজ হত্যা মামলা
এ ছাড়া হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা-য় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে আরও দুই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও সেসব মামলাতেও তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।
রাষ্ট্রপক্ষের আপিল ও আদালতের সিদ্ধান্ত
হাইকোর্টের দেওয়া জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল। গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত জামিন স্থগিত করে বিষয়টি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান।
রোববার নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন।
আইনজীবীদের মতে, আপিল বিভাগের এ আদেশের মাধ্যমে আইভীর মুক্তির পথ কার্যত উন্মুক্ত হলো।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আইভী
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের জনপ্রিয় মেয়র হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা রয়েছে। সমর্থকদের দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে বিরোধী পক্ষ বলছে, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আপিল বিভাগের এ সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতি ও জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জামিন পাওয়া মানেই মামলা থেকে অব্যাহতি নয়। মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে এবং তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।
তবে আপিল বিভাগের এ আদেশে আপাতত কারাগার থেকে মুক্তি পেতে আর কোনো আইনি জটিলতা থাকছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
