
বিরোধীদের প্রতিও শেখ হাসিনার মানবিক আচরণ ও সহায়তার নানা স্মৃতি তুলে ধরে আবেগঘন লেখা দিয়েছেন আশরাফুল ইসলাম খোকন।
মানবিক শেখ হাসিনাকে নিয়ে খোকনের আবেগঘন স্মৃতিচারণ
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আশরাফুল ইসলাম খোকন সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে শেখ হাসিনা–র মানবিক দিক নিয়ে নানা স্মৃতিচারণ করেছেন। রাজনৈতিক মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে অসুস্থ, বিপদগ্রস্ত কিংবা আর্থিক সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বহু ঘটনার উল্লেখ করেন তিনি।
স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেখানে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা বহু ব্যক্তি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে সহায়তা করেছেন, যা তার মানবিক নেতৃত্বের পরিচয় বহন করে।
কায়সার হামিদের প্রসঙ্গ টেনে আলোচনা
লেখার শুরুতেই সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ–এর মেয়ের চিকিৎসা সহায়তার প্রসঙ্গ টেনে খোকন লেখেন, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকলে হয়তো তাকে জনসাধারণের কাছে সাহায্যের আবেদন করতে হতো না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন অসহায় মানুষের খোঁজ রাখতেন এবং প্রয়োজন হলে ত্রাণ তহবিল থেকে সহায়তা পাঠাতেন।
খলিলউল্লাহ খান ও আমজাদ হোসেনের ঘটনা
স্ট্যাটাসে অভিনেতা খলিলউল্লাহ খান–এর অসুস্থতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন খোকন। তিনি জানান,
শেখ হাসিনা নিজ উদ্যোগে তার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠিয়েছিলেন, যদিও খলিলউল্লাহ খান বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এছাড়া চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেন–এর চিকিৎসার সময়ও শেখ হাসিনা বড় অঙ্কের সহায়তা দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সমালোচনা উঠলেও মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতিতে তার অবদানের কথা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন খোকন।
গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও স্বাধীনতা পুরস্কার
খ্যাতিমান গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার–এর সঙ্গেও শেখ হাসিনার সম্পর্কের বিষয়টি লেখায় উঠে আসে।
বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পরও তাকে সম্মান দেখানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
খোকনের ভাষ্য অনুযায়ী, “জয় বাংলা, বাংলার জয়”–এর মতো ঐতিহাসিক গানের অবদানের কারণে তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আরও কিছু উদাহরণ
স্ট্যাটাসে অভিনেতা আবুল হায়াত, সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ, কবি হেলাল হাফিজ এবং লোকসংগীতশিল্পী কুদ্দুস বয়াতি–এর প্রসঙ্গও উঠে আসে।
খোকন দাবি করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা এসব গুণী ব্যক্তিদের চিকিৎসা, সম্মাননা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছেন।
রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে মানবিকতা
স্ট্যাটাসের শেষ অংশে খোকন বলেন, শেখ হাসিনার সমালোচনা করা সহজ হলেও রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে
মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার মানসিকতা ধারণ করা কঠিন। তার এই লেখাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
কেউ শেখ হাসিনার মানবিক দিকের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব ও মানবিক উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে এই স্মৃতিচারণমূলক লেখাটি।
