ঢাকার আদালতে হাজিরা দিয়ে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আদালতে আসতে তার ভালো লাগে। শুনানিতে হাজিরা মওকুফ মঞ্জুর হয়।
আদালতে হাজিরা দিয়ে যা বললেন লতিফ সিদ্দিকী
রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামিনে থাকা সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বুধবার ঢাকার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। শুনানি শেষে আদালত তার ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন মঞ্জুর করলেও তিনি বিচারকের সামনে জানান, আদালতে এসে হাজিরা দিতে তার ভালো লাগে।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা-এর আদালতে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালতে উপস্থিত হয়ে লতিফ সিদ্দিকী বিচারকের উদ্দেশে বলেন, “এভাবে বিচার ব্যবস্থা চলতে পারে না। গত ছয় মাস আগে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল, আজকে সেই আদেশ দেওয়া হলো।”
আদালতে হাজিরা দিতে আগ্রহ প্রকাশ
শুনানি শেষে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ ধারায় তার ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে এ সময়ও লতিফ সিদ্দিকী আদালতকে জানান, তিনি নিয়মিত সশরীরে আদালতে হাজিরা দিতে চান।
আদালত কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি আদালতে আসবো, হাজিরা দিবো। আদালতে আসতে ভালো লাগে, অভ্যাস হয়ে গেছে।”
এর জবাবে বিচারক মন্তব্য করেন, “সেটা আপনার ইচ্ছে। আপনার আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।”
পরে হাসিমুখে আদালত ত্যাগ করেন সাবেক এই মন্ত্রী।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি পুলিশ
এদিন মামলাটিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও আসামিদের হাজিরার দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক তৌফিক হাসান আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি।
লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ ধারার আওতায় ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল এবং
আদালত সেটি অনুমোদন করেছেন। তার মক্কেল আদালতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।
যে ঘটনায় মামলা
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি প্রতিরোধ এবং জাতীয় অর্জন রক্ষার লক্ষ্যে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে।
সংগঠনটির উদ্যোগে গত ২৮ আগস্ট রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত Dhaka Reporters Unity-তে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠান চলাকালে একদল ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে হট্টগোল সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
তারা স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন এবং একপর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং গোলটেবিল বৈঠকের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ ঘটনায়
আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৬ জনকে আটক করে। পরদিন শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় লতিফ সিদ্দিকীর মন্তব্য
আদালতে হাজিরা নিয়ে লতিফ সিদ্দিকীর মন্তব্য ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় থাকা লতিফ সিদ্দিকী
আদালতে তার সরাসরি উপস্থিতির মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি নিজের অবস্থান তুলে ধরতে চেয়েছেন।
