পটুয়াখালীর বাউফল থেকে নিখোঁজ চার কিশোরীকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। চাকরির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়ার তথ্য মিলেছে।
চার দিনের উৎকণ্ঠার পর স্বস্তি পরিবারে
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নিখোঁজ হওয়া চার কিশোরীকে চার দিন পর গাজীপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের কোনাবাড়ী মৌচাক এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারগুলোর মধ্যে, যারা গত কয়েকদিন ধরে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটাচ্ছিলেন।
নিখোঁজ এক কিশোরীর বাবা মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাঁর মেয়েসহ চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের কালিয়াকৈর থানায় নেওয়া হয়। তিনি বলেন, “চারটা দিন খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। মেয়েকে ফিরে পেয়েছি, এখন অনেকটাই স্বস্তি লাগছে।”
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার অভিযান
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কিশোরীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চার কিশোরী গার্মেন্টসে চাকরি করার উদ্দেশ্যে কাউকে কিছু না জানিয়েই বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তারা কোনাবাড়ী এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেয় এবং চাকরির জন্য জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) তৈরি করছিল। ওই সময় পুলিশের নজরে আসে তাদের অবস্থান।
ওসি আরও জানান, কিশোরীদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলে পুরো ঘটনার পেছনের কারণ জানার চেষ্টা চলছে। এছাড়া তাদের কাউকে প্ররোচিত করা হয়েছিল কি না বা কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিউজ রেফারেন্স:
বাংলাদেশ পুলিশ
বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হয় চারজন
গত রোববার সকালে চার কিশোরী বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তাদের সন্ধান না পেয়ে ওই রাতেই অভিভাবকেরা বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজন সপ্তম শ্রেণির এবং একজন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনজন একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলেও অন্যজন পাশের আরেকটি বিদ্যালয়ের ছাত্রী।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।
পরিবারের সদস্যরা শুরু থেকেই আশঙ্কা করছিলেন, কোনো প্রতারক চক্র তাদের প্রলুব্ধ করে নিয়ে যেতে পারে।
‘আন্টির সঙ্গে বেড়াতে গেছে’—ফোনে এমন তথ্য
নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর এক কিশোরী পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে জানায়, তারা “আন্টির সঙ্গে বেড়াতে” গেছে।
তবে সে সময় তাদের সঠিক অবস্থান জানানো হয়নি। এই বক্তব্য ঘিরে রহস্য আরও বাড়ে।
পরে পুলিশের প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানে জানা যায়, তারা গাজীপুর এলাকায় অবস্থান করছে। এরপরই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
ঘটনাটি নিয়ে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা, অনলাইন যোগাযোগ এবং অল্প বয়সে চাকরির প্রলোভন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
সচেতনতার অভাব ও সামাজিক বাস্তবতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চাকরির প্রলোভন অনেক সময় কিশোর-কিশোরীদের ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করছে।
বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের মধ্যে দ্রুত উপার্জনের আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং তাদের মানসিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া।
একইসঙ্গে স্কুল পর্যায়েও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
তদন্ত চলমান
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরীদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় আইনি ও কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
পাশাপাশি পুরো ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চার কিশোরীর নিরাপদে ফিরে আসায় স্বস্তি ফিরলেও ঘটনাটি সমাজে কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
