কক্সবাজারের উখিয়ায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে সংঘর্ষে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হয়েছেন এক মা। ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক বিরোধ এবং মামলাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলায় ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন এক মা।
শনিবার রাত ৮টার দিকে টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছৈয়দা খাতুন (৫৫) স্থানীয় বাসিন্দা ছব্বির আহমদের স্ত্রী। ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁর ছেলে এস এম ইমরান ওরফে আব্দুর রহমান।
কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক সপ্তাহ আগে টাইপালং মাদ্রাসার দেয়ালে ছাত্রদলের গ্রাফিতির নিচে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
ওই এজাহারে এস এম ইমরানকে ১৩ নম্বর আসামি করা হয়। এরপর থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন বাড়িতে অভিযান চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
হামলার অভিযোগ
আহত ইমরানের দাবি, শনিবার রাতে তিনি স্থানীয় টাইপালং স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় তাঁর বন্ধু মোহাম্মদ ইউনুস-এর সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন ছাত্রদল ও বিএনপি কর্মী তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ইমরানের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় তাঁর মা, স্ত্রী ও ছোট বোন এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে তাঁর মা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে বিতর্ক
ইমরান দাবি করেছেন, তিনি আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তবে তাঁকে “ছাত্রলীগ ট্যাগ” দিয়ে
হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে
স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন।
হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার বিষয়ে মো. মুজিবুর রহমান জানান, নিহত নারীকে হাসপাতাল থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তিনি বলেন, “মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকায় উত্তেজনা
ঘটনার পর টাইপালং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক বিরোধ এবং সামাজিক বিভাজনের কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক প্রতীক ও স্লোগানকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।
