দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু। মোট প্রাণহানি বেড়ে ৫৫৫। উদ্বেগ বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে।
দেশে বাড়ছে হাম পরিস্থিতির উদ্বেগ
দেশজুড়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫৫ জনে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩৬ জন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১১৩৬ জন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে একজন নিশ্চিত হাম রোগী এবং হামের উপসর্গে আরও নয়জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, চোখ লাল হওয়া ও কাশি—এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
মার্চের পর থেকে ৫৫৫ জনের মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগে মারা গেছে ৮৮ জন। অন্যদিকে সন্দেহজনক হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪৬৭ জনের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়াই মৃত্যুহার বাড়ার অন্যতম কারণ।
শিশুদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য হাম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
অপুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে জটিলতা আরও বাড়তে পারে।
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে হাম আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ছে। অনেক জায়গায় আলাদা আইসোলেশন ইউনিট চালু করতে হয়েছে।
চিকিৎসকরা অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
টিকাদানে গুরুত্বারোপ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত টিকাদান।
জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হাম-রুবেলা টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাড়ছে জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ
ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো,
সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ মেডিকেল টিম মোতায়েন জরুরি।
এদিকে বিভিন্ন জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যসেবায় চাপ তৈরি হয়েছে।
