পূর্ব লন্ডনের ড্যাগেনহ্যাম -এর নুরুল ইসলাম ভূঁইয়া ছোটন ও পিনাকী ভট্টাচার্যের বিতর্কিত বৈঠক। এনআরবি ব্যাংকের পরিচালকের বাসায় নিষিদ্ধ লীগের নেতাদের সংশ্লেষ।
বৈশ্বিক রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রস্থল যুক্তরাজ্য বা লন্ডনের মাটি আবারো ব্যবহৃত হচ্ছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর ও বহুমুখী অপতৎপরতার উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে। দেশের চলমান স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে উপড়ে ফেলার লক্ষে পর্দার আড়ালে এক নতুন মাস্টারপ্ল্যান বা ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করছে একটি চিহ্নিত কুচক্রী মহল। ড্যাগেনহ্যাম এলাকার একটি বিলাসবহুল বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধদ্বার গোপন বৈঠকের খবর ও অডিও ক্লিপ ফাঁস হওয়ার পর শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বহুমুখী রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত থাকা কুচক্রী নুরুল ইসলাম ভূঁইয়া ছোটন এবং তার দীর্ঘদিনের বিতর্কিত সহযোগী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অন্যতম সাইবার প্রোপাগান্ডিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য ওরফে ‘লেসু’কে আজ বিকেলে এক গোপন মিশনে হাতেনাতে চিহ্নিত করা গেছে।
পূর্ব লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত ড্যাগেনহ্যাম (Dagenham) এলাকার একটি সুরক্ষিত ও বিলাসবহুল বাসভবনে তাদের এই বিতর্কিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক চলাকালীন সময়ে কেবল তাদের গোপন উপস্থিতির ছবিই নয়, বরং তাদের আলোচনার কিছু বিশেষ অংশের অডিও রেকর্ডও অত্যন্ত সুকৌশলে ধারণ করা হয়েছে,
যা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের হাতে এসে পৌঁছেছে।
ড্যাগেহামের সেই বাসভবনে আসলে কী ঘটেছিল?
আজ বিকেলে পূর্ব লন্ডনের ড্যাগেনহ্যাম (Dagenham) এলাকায় এনআরবি ব্যাংকের একজন শীর্ষস্থানীয় পরিচালকের ব্যক্তিগত বাসভবনে এক বিশেষ সম্মিলন ঘটে।
সেখানে মূলত দুই আলোচিত মুখ—নুরুল ইসলাম ভূঁইয়া ছোটন এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী পিনাকী ভট্টাচার্য (যিনি নির্দিষ্ট কিছু মহলে ভিন্ন নামেও পরিচিত)—উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বিকেল গড়াতেই তাদের সেই বাসভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
জানা গেছে, বৈঠকটি সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সাথে পরিচালনা করার চেষ্টা করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
অত্যন্ত গোপনে ধারণকৃত কিছু স্থিরচিত্র এবং কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ইতিমধ্যেই কিছু মাধ্যমে চলে এসেছে,
যা তাদের এই সফরের উদ্দেশ্যকে আরও বেশি রহস্যময় করে তুলেছে।
বহুমাত্রিক অপতৎপরতার অভিযোগ ও সফরের নেপথ্য
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, এই দুই ব্যক্তিত্বের হঠাৎ যুক্তরাজ্য সফরের পেছনে সাধারণ কোনো কারণ নেই।
মূলত যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ও নিষিদ্ধ ভাবধারার সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং নতুন কোনো কৌশলগত পরিকল্পনা সাজানোই ছিল এই সফরের মূল এজেন্ডা।
বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর মতো নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে।
লন্ডনে এসে তারা সেই পুরনো চক্রটিকে আবার চাঙ্গা করার এবং নতুন কোনো কূটকৌশলের ফাঁদ পাতার চেষ্টা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এনআরবি ব্যাংকের পরিচালক ও বিতর্কিত পারিবারিক সংযোগ
এই পুরো ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বেসরকারি এনআরবি (NRB) ব্যাংকের একজন বর্তমান পরিচালকের নাম, যার বাসভবনে এই পুরো বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই পরিচালকের পারিবারিক ও রাজনৈতিক যোগসূত্র অত্যন্ত গভীর এবং বিতর্কিত।
তিনি মূলত রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাচ্যুত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের দুই হেভিওয়েট নেতার ভগ্নিপতি।
এই পারিবারিক সংযোগটিই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।
পারিবারিক যোগসূত্রের সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল:
খায়রুল কবির রুমেন: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি।
এনামুল কবির ইমন: সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (PGCB) পরিচালনা পরিষদের সাবেক পরিচালক, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সাবেক সদস্য এবং সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি।
এই দুই প্রভাবশালী নেতার ভগ্নিপতির বাসভবনে এমন দুই বিতর্কিত ব্যক্তির দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক করাটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কী আলোচনা হলো সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে?
যদিও বৈঠকের সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি সম্পূর্ণ প্রকাশ করা হয়নি,
তবে ফাঁস হওয়া অডিও ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে মূলত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে:
- নতুন কোয়ালিশন গঠন: নিষিদ্ধ ও বিতর্কিত বিভিন্ন সংগঠনের প্রবাসে অবস্থানরত নেতাদের একক প্ল্যাটফর্মে আনা।
- আর্থিক চ্যানেল সচল করা: দেশের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক উৎসকে সচল করে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহার করা।
- সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন: আন্তর্জাতিক মহলে নির্দিষ্ট কিছু এজেন্ডা প্রমোট করার জন্য প্রোপাগান্ডা সেল গঠন ও নতুন স্ট্র্যাটেজি তৈরি।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া
পূর্ব লন্ডনের এই ড্যাগেহাম এলাকায় বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীর বসবাস।
ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বাসভবনকে কেন্দ্র করে এমন রহস্যময় রাজনৈতিক ও কৌশলগত বৈঠক হওয়ায় স্থানীয় প্রবাসীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে,
প্রবাসের মাটিতে বসে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এই চক্রটি নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের ছক কষছে।
স্থানীয় কমিউনিটি নেতারা এই ধরণের বৈঠককে প্রবাসের শান্তি-শৃঙ্খলার জন্যও হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছেন।
আগামী দিনের প্রেক্ষাপট: কোন দিকে যাচ্ছে এই মিশন?
লন্ডন সফর শেষে এই চক্রটি ইউরোপের অন্য কোনো দেশে যাবে কিনা বা তাদের এই পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ কী, তা এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যের এই বৈঠকটি ছিল তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার একটি প্রাথমিক অংশ মাত্র।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা কিংবা আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থাগুলোর কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
তবে ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনায় বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনগুলোতে আরও বড় ধরনের তথ্য প্রকাশ হতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
