কারামুক্তি দিবস, ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জুন-জুলাইজুড়ে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ।
কারামুক্তি দিবস, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণা
স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস, দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক কর্মসূচিতে জুন ও জুলাই মাসজুড়ে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংগঠনিক, সামাজিক ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
দলটির ঘোষিত কর্মসূচিতে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, শ্রদ্ধা নিবেদন, বিক্ষোভ সমাবেশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
১১ জুন শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস
আওয়ামী লীগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রায় ১১ মাস কারাবন্দি থাকার পর ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি মুক্তি লাভ করেন।
দলটির দাবি, সেই সময় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের চাপ এবং জনমতের কারণে তৎকালীন সরকার তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল।
কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে ১১ জুন একটি ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, দেশ-বিদেশে অবস্থানরত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মামলা প্রত্যাহার ও রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে ১৩ জুন কর্মসূচি
আওয়ামী লীগ অভিযোগ করেছে, তাদের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে আগামী ১৩ জুন “মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং রাজবন্দিদের মুক্তি” দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
দলীয় নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এ উপলক্ষে দেশ-বিদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করবেন।
তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষ কর্মসূচি
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের জন্যও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
- প্রয়াত, নিহত, কারাবন্দি ও ঘরছাড়া নেতাকর্মীদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া।
- স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি।
- দেয়াল লিখন কর্মসূচি।
- পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ।
- সাংগঠনিক যোগাযোগ জোরদার করা।
দলটির সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোকে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
দলের ঘোষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে দিবসটি উদযাপন করা হবে।
সকালের কর্মসূচি
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন সকালে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি পালনের কথা বলা হয়েছে—
- ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন।
- বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিল।
- টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন।
- মাজার কমপ্লেক্স মসজিদে বিশেষ দোয়া।
- দেশব্যাপী মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনা।
- দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ।
সাংগঠনিক ও প্রচার কার্যক্রম
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে মিছিল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে বিভাগ, জেলা এবং বিদেশে অবস্থিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শাখাকে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রচারণার পরিকল্পনা রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একই প্রোফাইল ছবি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভার্চুয়াল আলোচনা সভার ধারাবাহিক আয়োজন
২৩ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ধারাবাহিকভাবে ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করবে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী—
- ২৩ জুন: আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আলোচনা সভা
- ২৪ জুন: ছাত্রলীগ
- ২৫ জুন: স্বেচ্ছাসেবক লীগ
- ২৬ জুন: যুবলীগ
- ২৭ জুন: কৃষক লীগ
- ২৮ জুন: জাতীয় শ্রমিক লীগ ও মহিলা শ্রমিক লীগ
- ২৯ জুন: যুব মহিলা লীগ
- ৩০ জুন: মহিলা আওয়ামী লীগ
দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, এসব কর্মসূচিতে শেখ হাসিনার অংশগ্রহণের বিষয়টি সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।
১ জুলাই দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি
আওয়ামী লীগ ১ জুলাই দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশেরও ঘোষণা দিয়েছে।
দলটির দাবি, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া বিভিন্ন রায় ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের অবস্থানও কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।
রাজনৈতিক বার্তা ও সাংগঠনিক সক্রিয়তা বৃদ্ধির চেষ্টা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুন ও জুলাই মাসজুড়ে ঘোষিত এসব কর্মসূচির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে নিজেদের সক্রিয় রাখার পাশাপাশি দেশ-বিদেশে সমর্থকদের মধ্যে যোগাযোগ ও ঐক্য জোরদারের চেষ্টা করছে।
বিশেষ করে কারামুক্তি দিবস, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিকে কেন্দ্র করে দলটি একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
