মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি জাতীয় স্বার্থবিরোধী দাবি করে তা অবিলম্বে বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা নুর আহমদ বকুল।
অসম মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবি নুর আহমদ বকুলের
জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ
মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তিকে ‘অসম’ ও ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ বকুল। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের জনগণকে অন্ধকারে রেখে এবং সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা ছাড়াই চুক্তি কার্যকরের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চা ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর তোপখানা রোডে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিক।
‘সংসদে আলোচনা ছাড়া চুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়’
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে নুর আহমদ বকুল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তির বিভিন্ন ধারা ও উপধারায় এমন কিছু শর্ত রয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নীতিনির্ধারণী সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পাদিত এই চুক্তি নিয়ে বর্তমান সরকার স্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে জনগণের কাছ থেকে তথ্য গোপন করছে। জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদে আলোচনা এবং জনমতের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তার ভাষায়, “জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি জনগণ মেনে নেবে না। দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই চুক্তি বাতিল করতে হবে।”
স্বাধীনতার চেতনা ও বিদেশি প্রভাবের প্রসঙ্গ
বক্তব্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে নুর আহমদ বকুল বলেন, স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশ উপনিবেশিক শোষণ থেকে মুক্ত হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে নতুন ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
ওয়ার্কার্স পার্টির এই নেতা দাবি করেন, কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি এবং দেশীয় দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী বাংলাদেশের ওপর
প্রভাব বিস্তারের জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করছে। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে তিনি সমাবেশে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
জনগণকে আন্দোলনে নামার আহ্বান
সমাবেশে নুর আহমদ বকুল দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী যে কোনো চুক্তি বা বিদেশি চাপের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। তার মতে,
রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।
রাশেদ খান মেননের মুক্তির দাবিও
বিক্ষোভ সমাবেশে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নিঃশর্ত মুক্তি এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।
দলীয় নেতারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোও প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে বাণিজ্যচুক্তি
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্নমত প্রকাশ করেছে।
সরকারপক্ষ যেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করছে,
সেখানে বামপন্থী দলগুলো জাতীয় অর্থনীতি ও নীতিগত স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলে সমালোচনা করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্যচুক্তির প্রকৃত প্রভাব,
শর্তাবলি এবং অর্থনৈতিক ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে জনমনে বিদ্যমান বিভ্রান্তি ও বিতর্ক অনেকাংশে কমে আসতে পারে।
