বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবির নেতা জিসান প্রধানকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগে শিবির নেতা জিসান বহিষ্কার
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আলোচিত ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান প্রধানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদ।
শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জিসানকে উদ্ধারের পর থেকে সংগঠনের কোনো প্রতিনিধি বা পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
বহিষ্কারের কারণ কী?
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জিসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী বিধবা নারী লিজা আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার সঙ্গে জিসানের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিধবা এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তার সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে জিসানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি, ভুক্তভোগী ওই বিধবা নারীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিবিরের প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ জানান, লিজার বড় বোন সাবিকুন্নাহার তাদের জানিয়েছেন যে তিনি আগে থেকেই জিসান ও লিজার সম্পর্কের বিষয়ে অবগত ছিলেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতেই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নীতিমালার আলোকে জিসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে সংগঠনটি বলছে, নিখোঁজ বা অপহরণ সংক্রান্ত ঘটনার প্রকৃত সত্য এখনো পুরোপুরি উদ্ঘাটিত হয়নি।
জিসানের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পায়নি পরিবার
ফরহাদের দাবি অনুযায়ী, পুলিশ জিসানকে উদ্ধারের পর শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত তার পরিবারের সদস্য কিংবা ছাত্রশিবিরের কোনো প্রতিনিধি
তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাননি। তিনি বলেন, বর্তমানে জিসান পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বক্তব্য এখনো সংগঠনের কাছে পৌঁছায়নি।
এ কারণে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা কিংবা তার পেছনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
লিজা আক্তার ও তার পরিবার সম্পর্কে যা জানা গেছে
ছাত্রশিবিরের বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, মামলা দায়েরকারী লিজা আক্তারকে পুলিশ বা প্রশাসনের সদস্যরা তাদের বাড়ি থেকে নিয়ে যায়।
এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের তার সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি। পরে লিজা ও তার বাবাকে আলাদা অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে
অভিযোগ করেন তার স্বজনরা। লিজার বড় বোনের ভাষ্য অনুযায়ী, থানায় নেওয়া,
মামলা দায়ের কিংবা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিবারকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
নিখোঁজ রহস্য নিয়ে প্রশ্ন
জিসান প্রধানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা শুরু থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তাকে উদ্ধারের পর বিভিন্ন মহলে এ বিষয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় তারা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি।
তবে সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একজন নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবং পরবর্তীতে বহিষ্কারের ঘটনা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রমে আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
একই সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া, উদ্ধার এবং মামলার প্রেক্ষাপট নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ফলাফলের দিকেও নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে জিসান প্রধান বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ফলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে আসতে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
