কুষ্টিয়ায় সাবেক মেয়র আনোয়ার আলীর বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও জনসমাগম।
কুষ্টিয়ায় সাবেক মেয়র আনোয়ার আলীর বাড়িতে গভীর রাতে পুলিশের তল্লাশি অভিযান
কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলীর বাড়িতে গভীর রাতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই অভিযানে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন। তবে দীর্ঘ তল্লাশি শেষে কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত আনোয়ার আলীর নিজ বাড়িতে ঘটে। অভিযান ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং রাতেই শতাধিক মানুষ বাড়ির সামনে জড়ো হন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান
অভিযান শেষে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর সাংবাদিকদের জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটিতে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের কয়েকজন সদস্য সেখানে অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে তল্লাশিতে সন্দেহভাজন কাউকে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ, ছাদ এবং পানির ট্যাংক পর্যন্ত তল্লাশি করা হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেয় পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে আটটার পর থেকেই বাড়ির আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শিকদার মো. হাসান ইমাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকারের নেতৃত্বে একটি দল বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে।
এ সময় বাড়ির সামনে একাধিক পুলিশ যানবাহন ও র্যাব সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কেন গভীর রাতে তল্লাশি?
অভিযান চলাকালে বাড়ির সামনে শতাধিক নারী-পুরুষ জড়ো হন। অনেকেই পুলিশের অভিযানের কারণ জানতে চান।
স্থানীয় কয়েকজন নারী অভিযোগ করেন, একজন বয়স্ক ব্যক্তির বাড়িতে গভীর রাতে অভিযান পরিচালনার যৌক্তিকতা সম্পর্কে তাদের জানানো হয়নি। তারা তল্লাশির অনুমতিপত্র বা ওয়ারেন্টের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদস্যরা বাড়ির মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে অনুরোধ করেন।
আনোয়ার আলীর প্রতিক্রিয়া
অভিযানের সময় বাড়ির ভেতরে অবস্থান করছিলেন সাবেক মেয়র আনোয়ার আলী। তিনি জানান, কয়েক দিন আগেও পুলিশ তাঁর ছেলেকে খুঁজতে এসেছিল।
তাঁর দাবি, তল্লাশির বিষয়ে তাঁকে কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে বলেও তিনি জানেন না।
আনোয়ার আলী বলেন, আইন অনুযায়ী তল্লাশির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।
পরিবারের বক্তব্য
আনোয়ার আলীর স্ত্রী আকতার জাহান জানান, পুলিশ বাড়ির প্রতিটি কক্ষ, আলমারি, বাথরুম এবং ছাদ তল্লাশি করেছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিবারের সঙ্গে কোনো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে বাড়ির নৈশপ্রহরী দাবি করেন, তল্লাশির সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাড়ির সিসিটিভি ব্যবস্থার একটি স্টোরেজ ডিভাইস নিয়ে গেছেন।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
তবে স্থানীয়ভাবে এই অভিযান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
কুষ্টিয়ার সাবেক মেয়র আনোয়ার আলীর বাড়িতে পরিচালিত এই তল্লাশি অভিযান স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশের দাবি, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অন্যদিকে পরিবারের সদস্যরা অভিযানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ ও তদন্তের অগ্রগতি এখন সবার নজরে।
