আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠা থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বর্তমান রাজনীতিতে দলটির ভূমিকার বিস্তারিত।
আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ: ইতিহাস, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক পথচলার স্মরণ
ঢাকা, ২৩ জুন ২০২৬: দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দলটি দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
রোজ গার্ডেন থেকে যাত্রা
তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দলের প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক।
সেই সময় তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে বন্দি থাকলেও দলের প্রথম কমিটিতে সর্বসম্মতিক্রমে যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে তিনি দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করে আওয়ামী লীগকে বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেন।
নাম পরিবর্তন ও সাংগঠনিক বিকাশ
১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কাউন্সিলে মওলানা ভাসানী সভাপতি এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ১৯৫৫ সালের ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত তৃতীয় কাউন্সিলে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। তখন দলটির নামকরণ করা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দলটির বর্তমান নাম ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ রাখা হয়। এর মাধ্যমে দলটি অসাম্প্রদায়িক ও গণমুখী রাজনৈতিক আদর্শকে আরও সুস্পষ্টভাবে ধারণ করে।
স্বাধীনতা সংগ্রামে আওয়ামী লীগের ভূমিকা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে আওয়ামী লীগের সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
বিশেষ করে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালির স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় এবং পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসে দলটির
অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ
১৯৮১ সালের জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে দলটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে
এবং দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক খাতে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তাৎপর্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি রাজনৈতিক দলের জন্মদিন নয়; বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতন্ত্রের বিকাশ
এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, দোয়া মাহফিল এবং নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়ে থাকে।
এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দলের ইতিহাস, আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন নতুন করে তুলে ধরা হয়।
রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়
৭৭ বছরে আওয়ামী লীগ নানা উত্থান-পতন, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে।
ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দলটির ভূমিকা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।
