ব্রিকসের এমব্রিজ প্রকল্প, ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ডিপ স্টেটের পরিকল্পনা, কোয়াডের নীতি পরিবর্তন এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রক্সি ওয়ারের ঝুঁকি নিয়ে বিশেষ বিশ্লেষণ।
অধ্যাপক ড. আরিফ খান: একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর প্রধান কৌশলগত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। প্রথাগত ভূ-রাজনীতির সীমানা পেরিয়ে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য পর্দার আড়ালে চলছে নজিরবিহীন গোয়েন্দা তৎপরতা এবং দীর্ঘমেয়াদী মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক প্রকৌশল। বিখ্যাত ভূ-রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক প্রফেসর ডক্টর আরিফ খানের সাম্প্রতিকতম কৌশলগত বিশ্লেষণ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়াকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক ‘ডিপ স্টেট’ বা ছায়া শাসক সিন্ডিকেট এমন এক দীর্ঘমেয়াদী এবং বিপজ্জনক প্রক্সি যুদ্ধের (Proxy War) ছক কষছে, যা কেবল ভারত বা বাংলাদেশের মতো সার্বভৌম রাষ্ট্রের অখণ্ডতাকেই হুমকির মুখে ফেলবে না, বরং সমগ্র এশিয়া মহাদেশকে একটি দীর্ঘস্থায়ী বন্ধ্যা ও অস্থিতিশীল অঞ্চলে (Barren Zone) পরিণত করতে পারে।

ব্রিকস, আরআইসি এবং এমব্রিজ: ডলারের বিকল্প অর্থনৈতিক মেরুকরণ
প্রফেসর ডক্টর আরিফ খানের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বিশ্লেষণের প্রথম প্রধান স্তম্ভ হলো বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থার আমূল রূপান্তর।
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের (Fed) বন্ড-সমর্থিত স্টেবল ক্রিপ্টো কয়েনের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিকে পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার যে সূক্ষ্ম সমান্তরাল চেষ্টা চলছে,
তাকে প্রতিহত করতে গ্লোবাল সাউথকে একটি বাস্তবভিত্তিক বিকল্প দাঁড় করাতে হবে।
পশ্চিমা এই ডিজিটাল কাগজের অর্থনীতি মূলত একটি কৃত্রিম বুদবুদ বা বাবল অর্থনীতি (Bubble Economy),
যা বাস্তব সম্পদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি।
এই পশ্চিমা বাবল অর্থনীতিকে রুখে দিতে ব্রিকস (BRICS) এবং আরআইসি (RIC – রাশিয়া, ভারত, চীন) জোটকে তাদের বহুল আলোচিত ‘এমব্রিজ’ (mBridge) ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট প্রকল্পকে সফল করতে হবে।
এই বিকল্প অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য নিচের কৌশলগত পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য:
বাস্তব সম্পদের ব্যাকআপ: নতুন এই অর্থনৈতিক ব্লকটিকে কেবল ফিয়াট কারেন্সির ওপর নির্ভর না করে খাঁটি সোনা (Gold Backed), তেল, গ্যাস এবং খাদ্যের মতো বাস্তব ও কঠিন কমোডিটির দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।
কূটনৈতিক সমীকরণ: এই প্রক্রিয়াকে সফল করতে ভারতকে অত্যন্ত চতুরতার সাথে রাশিয়া ও সৌদি আরবকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে হবে।
একই সাথে সাময়িকভাবে রিয়াদকে ইসলামাবাদ থেকে কৌশলগত দূরত্বে রাখার কূটনীতি অবলম্বন করতে হবে।
আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি: এই ত্রিমুখী জোটের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় উদ্ভাবনী উৎপাদন লাইনের বিকাশ ঘটবে,
যা গ্লোবাল সাউথের ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার সমতা (Purchasing Parity) বৃদ্ধি করবে এবং বাজার সম্প্রসারণের পথ সুগম করবে।
এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভারতের যেমন অগ্রণী ও উদ্যোগী ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন,
তেমনি চীনকেও একটি দায়িত্বশীল পরাশক্তি হিসেবে আচরণ করতে হবে
—ঠিক যেভাবে পশ্চিমা জি-৭ (G7) জোটের দেশগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সত্ত্বেও বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবসময় অভিন্ন ও ঐক্যবদ্ধ থাকে।
সেভেন সিস্টার্স এবং ‘জোগান রাষ্ট্র’ (Zogan State): ডিপ স্টেটের দীর্ঘমেয়াদী ছক
ডক্টর আরিফ খানের বিশ্লেষণের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর দিকটি হলো ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য বা ‘সেভেন সিস্টার্স’ (Seven Sisters)-কে কেন্দ্র করে পশ্চিমা পরাশক্তিগুলোর দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক প্রকৌশল (Social Engineering)। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই কৌশলগত অঞ্চলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এনজিওর মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জনমিতি (Demographics) পরিবর্তনের একটি সূক্ষ্ম প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে।
আমেরিকার ন্যাশনাল এনডাওমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি (NED), ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (IRI), ইউএসএআইডি (USAID) এবং জর্জ সোরোসের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের মতো প্রভাবশালী পশ্চিমা সংস্থাগুলোর অর্থায়নে এই অঞ্চলের কিছু নির্দিষ্ট প্রদেশে একটি বিশেষ ধর্মীয় বিস্তার ও সাংস্কৃতিক রূপান্তর ঘটানো হয়েছে,
যা কোনো কোনো এলাকায় ৮০ শতাংশ বা তারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এমনকি কৌশলগত কারণে ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী একটি বিশেষ অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে ‘জেরুজালেম’,
যা এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার একটি প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ।
ডিপ স্টেটের ভূ-কৌশলগত রূপান্তর:
├── উত্তর-পূর্ব ভারতে জুডিও-খ্রিস্টান “জোগান রাষ্ট্র” (Zogan State) গঠন
├── বাংলাদেশকে প্রক্সি যুদ্ধের ময়দান বানিয়ে ইরাকের মতো খণ্ডবিখণ্ড করা
└── ভারতকে ভেঙে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আরেকটি ইসরায়েল-সদৃশ স্যাটেলাইট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
পশ্চিমা ডিপ স্টেটের নীতিনির্ধারকদের গোপন দলিলে এই পরিকল্পিত অঞ্চলটিকে একটি জুডিও-খ্রিস্টান বাফার স্টেট বা “জোগান রাষ্ট্র” হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
এটি মূলত আমেরিকা ও ইসরায়েলের জায়নবাদী সিন্ডিকেটের একটি সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনা।

ভারতকে মনে রাখতে হবে যে, সে কোনো সুনির্দিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক শক্তির সাময়িক সন্তুষ্টির জন্য তার স্থায়ী ভৌগোলিক প্রতিবেশী পরিবর্তন করতে পারবে না।
বর্তমান বাজারভিত্তিক অর্থনীতির (Market Place Economy) যুগে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) সচল
ও নির্বিঘ্ন রাখতে হলে ভারতকে তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সংঘাত এড়িয়ে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা জোট গড়ে তুলতে হবে।
কোয়াড থেকে ‘প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’: চীন ও ভারতকে খণ্ডবিখণ্ড করার নীল নকশা
ঐতিহাসিকভাবেই দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে নিজের স্থায়ী আধিপত্য বিস্তার করতে চাইলে প্রথমে সেখানে তার প্রধান প্রতিপক্ষকে কৃত্রিমভাবে জায়গা করে দেয় বা বিশেষ সুবিধা প্রদান করে।
এর মূল উদ্দেশ্য হলো—ঐ অঞ্চলে আমেরিকার পক্ষে একটি বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা
এবং পরবর্তীতে নিজের সামরিক উপস্থিতি বা স্থায়ী ঘাঁটি (Military Base) গড়ে তোলার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি অকাট্য ও পর্যাপ্ত অজুহাত তৈরি করা।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই একই কৌশল দক্ষিণ এশিয়ায় প্রয়োগ করা হচ্ছে।
বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন অঞ্চলে অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষ (Non-state Actors), বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং চরমপন্থী উগ্রবাদী শক্তিগুলোকে এক ধরণের অলিখিত কূটনৈতিক লিভারেজ ও ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
এই পরিকল্পনার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো—ইরাক ও সিরিয়ার মতো এই অঞ্চলকে টুকরো টুকরো করে ফেলা,
যাতে পরবর্তীতে খণ্ডবিখণ্ড অঞ্চলকে ভারতের মূল ভূখণ্ড ভাঙার জন্য একটি ‘প্রক্সি ওয়ার জোন’ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
যখন এই অঞ্চলগুলো মিয়ানমার বা ইরাকের মতো অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষগুলোর নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে,
তখন ডিপ স্টেট এই স্যাটেলাইট রাষ্ট্র এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ব্যবহার করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আরেকটি ইসরায়েল-সদৃশ স্থায়ী পশ্চিমা ঘাঁটি বা স্যাটেলাইট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে।
এই সুনির্দিষ্ট সামরিক পরিকল্পনার কারণেই সাম্প্রতিক কোয়াড (Quad) শীর্ষ সম্মেলনের পর পেন্টাগন তাদের দীর্ঘদিনের কৌশলগত নাম ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ থেকে পরিবর্তন করে কেবল “প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি” (প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল) হিসেবে পুনর্গঠন করেছে।
যেখানে ভারতের ভূমিকা ও নামকে কৌশলগতভাবে সংকুচিত করা হয়েছে।

এই পরিকল্পনার পরবর্তী ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো চীনকে খণ্ডবিখণ্ড করা।
ভৌগোলিকভাবে চীনের দুই-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ডই মূলত তিব্বত এবং মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর কাছ থেকে ঐতিহাসিক বিভিন্ন সময়ে নেওয়া।
কিন্তু এই অঞ্চলের অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষগুলোর দ্বারা যখন একটি ছায়া যুদ্ধ শুরু হবে,
তখন বেইজিং জাতিসংঘে কোনো কার্যকর কূটনৈতিক বা সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারবে না।
ঠিক যেভাবে ১৯৯০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নকে খণ্ডবিখণ্ড করার জন্য ১৯৮০-এর দশকে মধ্য এশিয়া এবং আফগান ভূখণ্ডকে ব্যবহার করা হয়েছিল,
ঠিক একই ঐতিহাসিক মডেলের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এবার সিরিয়া ও ইরাকের মতো সমগ্র এশিয়াকে একটি অস্থিতিশীল রণক্ষেত্রে পরিণত করার নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে।
আসন্ন নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সংকট
প্রফেসর ডক্টর আরিফ খানের এই কৌশলগত বিশ্লেষণের শেষ অংশে একটি অত্যন্ত জরুরি এবং সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা পূর্বাভাসের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল চালচিত্র অনুযায়ী,
আগামী ২৩ জুনে চীনের ডালিয়ানে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সফরের পর এই অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণে একটি আকস্মিক নাটকীয় মোড় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিরাপত্তা সংকটের সম্ভাব্য চেইন রিঅ্যাকশন:
├── ডালিয়ান সফর ও রাজনৈতিক মেরুকরণ
├── অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষ ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর আকস্মিক সক্রিয়তা
└── পশ্চিমা শক্তির সামরিক প্রবেশ ও স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের প্রকাশ্য অজুহাত

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে,
এই ধরণের স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ক্রান্তিলগ্নে কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী পক্ষকে ব্যবহার করে একটি কৃত্রিম নিরাপত্তা সংকট বা বিস্ফোরণ ঘটানো হতে পারে।
এমনকি আন্তর্জাতিক কিছু নন-স্টেট অ্যাক্টর (যেমন হামাস) প্রতীকীভাবে এই ধরণের ঘটনাকে উদযাপন বা নিজেদের অপারেশন হিসেবে প্রচার করতে পারে,
যা পশ্চিমাদের জন্য এই অঞ্চলে সরাসরি সামরিক বা কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ করার একটি প্রকাশ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য অজুহাত এনে দেবে।
এর চূড়ান্ত পরিণতিতে এই অঞ্চলটি বিশ্বের পরবর্তী ‘যুদ্ধের মঞ্চ’ (War Stage) হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে,
যা এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে স্থায়ীভাবে স্তব্ধ করে দেবে।
দক্ষিণ এশিয়ার জন্য আত্মরক্ষার কৌশলগত বার্তা
পরিশেষে বলা যায়, প্রফেসর ডক্টর আরিফ খানের এই গভীর ও দূরদর্শী বিশ্লেষণটি দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রনায়কদের জন্য একটি অত্যন্ত জরুরি সতর্কবার্তা।
ওয়াশিংটন বা পশ্চিমা ডিপ স্টেটের তৈরি করা প্রক্সি যুদ্ধের ফাঁদ থেকে বাঁচতে হলে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে তাৎক্ষণিক ভূ-রাজনৈতিক লাভের উর্ধ্বে উঠতে হবে।
ভারত, বাংলাদেশ বা চীনের মতো আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত বা রাজনৈতিক বিরোধগুলোকে পুঁজি করেই মূলত তৃতীয় কোনো দূরবর্তী শক্তি এখানে নিজের সামরিক ঘাঁটি গাড়ার অজুহাত খোঁজে। এই অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক অখণ্ডতা রক্ষা করার একমাত্র উপায় হলো—বাহ্যিক শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ব্রিকস ও আরআইসি-র মতো আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর অধীনে নিজেদের মধ্যকার সরবরাহ শৃঙ্খল রক্ষা করা
এবং অনানুষ্ঠানিক গোয়েন্দা সমন্বয়ের মাধ্যমে অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষ বা উগ্রপন্থী শক্তির উত্থানকে কঠোরভাবে দমন করা।
অন্যথায়, দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক স্বপ্ন একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক ট্র্যাজেডিতে পরিণত হতে পারে।

অধ্যাপক ড. আরিফ খান
সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য
