একযোগে ৭ ডেপুটি ও ১০ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ। জুলাই সনদ ও বিচার বিভাগসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ পদক্ষেপ।
একযোগে ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে একসঙ্গে পদত্যাগপত্র জমা
ঢাকা, ২৩ জুন ২০২৬: দেশের আইন অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়ে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ১৭ জন ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল।
সোমবার (২২ জুন) তারা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নিজ নিজ পদত্যাগপত্র জমা দেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) পদত্যাগকারী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তারিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
একসঙ্গে এতসংখ্যক আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ দেশের বিচার ও আইন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। যদিও প্রাথমিকভাবে পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি, পরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন পদত্যাগকারী কর্মকর্তারা।
কারা পদত্যাগ করেছেন
পদত্যাগকারী ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন—
- ইউসুফ আলী
- শফিকুর রহমান
- আবদুল করিম
- ফরিদ উদ্দিন খান
- গোলাম রহমান ভুঁইয়া
- আসাদ উদ্দিন
- তারিকুল ইসলাম
অন্যদিকে পদত্যাগকারী ১০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন—
- ইমরুল কায়েছ রানা
- হুমায়ুন কবির তানিম
- আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া
- আবদুল্লাহিল মারফ ফাহিম
- জোয়াদুর রহমান
- শামসিল আরেফিন
- মাহাবুবা আক্তার রলি
- নূর নবী উজ্জ্বল
- আল রেজা আমির
- রেজাউল ইসলাম
পদত্যাগের কারণ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন
পদত্যাগের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ আলী পদত্যাগের কারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকার কর্তৃক জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তার দাবি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং বিচারক নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উত্থাপিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের সাম্প্রতিক অবস্থানের সঙ্গে তারা একমত নন। সেই অবস্থান থেকেই তারা সম্মিলিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আইন অঙ্গনে আলোচনা
একযোগে ১৭ জন আইন কর্মকর্তার পদত্যাগকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণত পৃথকভাবে পদত্যাগের ঘটনা ঘটলেও একই দিনে এতসংখ্যক ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পদত্যাগ সরকারি আইন সেবার কাঠামো এবং চলমান বিচারিক কার্যক্রমের ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নতুন নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে বলেও তারা মনে করছেন।
সরকারের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা
পদত্যাগের ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, বিষয়টি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় পর্যবেক্ষণ করছে।
রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পদত্যাগের পেছনে উত্থাপিত কারণগুলো ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরবর্তী পরিস্থিতি কী হতে পারে
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে নতুন নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
পাশাপাশি পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বর্তমানে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
