সংসদে ইজ্জত উল্লাহর সতর্কবার্তা, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করে দেশ চালাতে চাইলে রাজনৈতিক দলগুলোকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।
চাঁদাবাজি করে দেশ চালালে পরিণতি ভোগ করতে হবে: সংসদে ইজ্জত উল্লাহর সতর্কবার্তা
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও টেন্ডারবাজির রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে যদি কোনো রাজনৈতিক দল চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করে, তাহলে তাদেরও কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
বুধবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঋণনির্ভর বাজেট, ব্যাংকিং খাতের সংকট এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জনগণের রায়কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান
ইজ্জত উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সচেতন এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে জনগণের আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তিকে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
তার ভাষায়, জনগণকে সুশাসন দিতে না পারলে এবং রাজনৈতিক দলগুলো যদি চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে দেশ পরিচালনার চেষ্টা করে, তাহলে তাদেরও রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই রাজনৈতিক দলগুলোর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
ঋণনির্ভর বাজেট নিয়ে উদ্বেগ
বাজেট আলোচনায় ইজ্জত উল্লাহ দেশের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক ঋণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঋণের ওপর নির্ভরশীল উন্নয়ন কার্যক্রম ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
তার মতে, বর্তমান ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে ঋণের বোঝা আরও বাড়বে এবং রাষ্ট্রের জন্য ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ব্যাংকিং খাত ও খেলাপি ঋণ নিয়ে প্রশ্ন
সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো যখন বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের চাপে
রয়েছে তখন সরকার কীভাবে ব্যাংকিং খাত থেকে নতুন করে বিপুল অঙ্কের ঋণ সংগ্রহ করবে, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় ঋণ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে অতিরিক্ত টাকা ছাপানোর প্রবণতা তৈরি হতে পারে,
যা মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতি নতুন চাপের মুখে পড়বে।
সরকার-বিরোধী দলের যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার অংশীদার হিসেবে দেখার আহ্বান জানান ইজ্জত উল্লাহ।
তিনি বলেন, একটি বাজেট নিয়ে সমালোচনা ও বিশ্লেষণ হওয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ।
তিনি প্রস্তাব করেন, বাজেট বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন জাতীয় সমস্যা সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে
একটি যৌথ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।
সাতক্ষীরা রেললাইন প্রকল্পের দাবি
নিজ নির্বাচনী এলাকা সাতক্ষীরার উন্নয়ন প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য।
তিনি অভিযোগ করেন, চলতি বাজেটে সাতক্ষীরা রেললাইন প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।
অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ বছরই প্রকল্পটির কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত,
কারণ এটি এলাকার যোগাযোগ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় ইজ্জত উল্লাহর বক্তব্যে রাজনৈতিক সতর্কবার্তা, অর্থনৈতিক উদ্বেগ এবং জাতীয় ঐক্যের আহ্বান একসঙ্গে উঠে এসেছে।
বিশেষ করে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির রাজনীতির বিরুদ্ধে তার মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
একই সঙ্গে ঋণনির্ভর অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের সংকট নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
