গ্রেপ্তারের একদিন পর চট্টগ্রামে যুবলীগ নেতা নুরুল আলমের মৃত্যু। পরিবার বলছে হত্যা, কারা কর্তৃপক্ষ বলছে অসুস্থতায় মৃত্যু। তদন্তের দাবি।
গ্রেপ্তারের একদিন পর যুবলীগ নেতা নুরুল আলমের মৃত্যু, উঠেছে নানা প্রশ্ন
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা নুরুল আলমের মৃত্যু ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গ্রেপ্তারের মাত্র একদিনের মাথায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হওয়ায় পরিবার, রাজনৈতিক মহল এবং স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাসপাতালের মৃত্যুসনদে শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং তাকে হত্যা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর কারাগারে প্রেরণ
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরের দিকে সাতকানিয়া থানার সামনে থেকে গোয়েন্দা পুলিশ নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
নিহতের বড় ভাই নূর মোহাম্মদ অভিযোগ করেন, নুরুল আলমের বিরুদ্ধে কোনো সক্রিয় মামলা ছিল না। স্থানীয় একটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে টার্গেট করে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য, গ্রেপ্তারের সময় এবং কারাগারে নেওয়ার আগ পর্যন্ত নুরুল আলম সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন। কিন্তু পরদিন সকালে পরিবারের কাছে তার মৃত্যুর খবর পৌঁছে যায়।
পরিবারের অভিযোগ: ‘হত্যার শিকার’
নূর মোহাম্মদ বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
পরিবারের দাবি, একজন সুস্থ ব্যক্তির এত দ্রুত মৃত্যুর ঘটনা রহস্যজনক। তারা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেলে নুরুল আলমকে কারাগারে আনা হয়।
কারাগারে প্রবেশের পর সন্ধ্যার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় রাতেই তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
নুরুল আলমের মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীদের একটি অংশও কারাগারে আটক ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।
তদন্তের অপেক্ষায় পরিবার
বর্তমানে নুরুল আলমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ভিন্নমুখী বক্তব্য সামনে এসেছে।
একদিকে হাসপাতালের নথিতে শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবার অভিযোগ করছে পরিকল্পিত হত্যার।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, চিকিৎসা নথি এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পরই এ ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
