কড়াইল বস্তিসহ ৫৮ এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের সরকারি পরিকল্পনা, সংসদে জানালেন গৃহায়ণমন্ত্রী।
কড়াইল বস্তি উচ্ছেদ করে এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা
রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ দেশের ৫৮টি এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এক লাখ সাশ্রয়ী আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরে বলেন, সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাসকারী মানুষের জন্য উন্নত আবাসনের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সংসদে সরকারের পরিকল্পনা
জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জানান, ঢাকা মহানগরীর ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২-২০৩৫-এর আওতায় নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ মোট ৫৮টি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় ধাপে ধাপে প্রায় এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পগুলো সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (PPP) মডেলেও বাস্তবায়নের সুযোগ বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্বল্প ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য পরিকল্পিত নগর আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কড়াইল বস্তির ভবিষ্যৎ কী?
কড়াইল বস্তি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ অনানুষ্ঠানিক বসতি হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে উচ্ছেদ, পুনর্বাসন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলেও স্থায়ী সমাধান বাস্তবায়ন হয়নি।
বর্তমান পরিকল্পনায় কড়াইল এলাকার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও সরকার এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি ঘোষণা করেনি যে কবে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হবে বা কীভাবে বিদ্যমান বাসিন্দাদের পুনর্বাসন করা হবে।
ফলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং নগর পরিকল্পনাবিদদের মধ্যে আগ্রহ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শুধু ঢাকা নয়, অন্যান্য শহরেও প্রকল্প
সরকার শুধু রাজধানী নয়; গাজীপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীর মতো শহরেও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আবাসন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ রয়েছে।
চট্টগ্রামের সল্টগোলা এলাকায় ভাড়াভিত্তিক আবাসন নির্মাণের একটি পৃথক প্রকল্পও বিবেচনাধীন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের বিকল্প তৈরি করা জরুরি।
অন্যদিকে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বাস্তবায়নে যেসব চ্যালেঞ্জ
একলাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে জমির প্রাপ্যতা, অর্থায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাসিন্দাদের পুনর্বাসন সবচেয়ে বড়চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন, স্বচ্ছ বরাদ্দ নীতিমালা এবং বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
যদি পরিকল্পনাটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে
এবং রাজধানীর অনানুষ্ঠানিক বস্তিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথও উন্মুক্ত হতে পারে।
