রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ও তৃণমূলের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি
নানা প্রতিকূলতা ও দীর্ঘ সংগ্রাম পেরিয়ে বিএনপি এখন রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ সতেরো বছর পর ক্ষমতায় এসে দলটি নানা বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তবে সরকার পরিচালনার ব্যস্ততায় দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমে বেশ স্থবিরতা নেমে এসেছে। মহানগর ও জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা এখন মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্য পদে ব্যস্ত। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীও এখন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসা নিয়ে অবস্থান করছেন। দলীয় হাইকমান্ডের কঠোর বার্তা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না।
মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ও তৃণমূলের চিত্র
সারা দেশে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো এখন একপ্রকার ঝিমিয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেশের মোট বিরাশিটি সাংগঠনিক জেলার অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। চৌয়াত্তরটি জেলা কমিটিতেই এখন পূর্ণাঙ্গ মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই।
অধিকাংশ উপজেলা ও থানা পর্যায়েও নিয়মিত কোনো কার্যকর কমিটি অবশিষ্ট নেই। নেতাদের এই উদাসীনতার কারণে দলের হাইকমান্ডের সুনির্দিষ্ট নির্দেশগুলো লঙ্ঘিত হচ্ছে। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন ও মতামত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন ক্ষমতার পর দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কঠিন কাজ। স্থানীয় পর্যায়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও নানা ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর তৎপরতা মোকাবিলায় মাঠের রাজনীতিতে দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ কোন্দল এড়াতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন বেশ সতর্ক নীতি নিয়েছেন। ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘটনা তারই একটি বড় প্রমাণ। বিতর্কিত ও হাইব্রিড নেতাদের বাদ দিয়ে পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব গঠনের চেষ্টা চলছে।
শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগগুলো পুরোপুরি এড়িয়ে গেছেন।
তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে বিএনপি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক শক্তিশালী।
তৃণমূল কমিটিতে শূন্য পদগুলো পূরণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলে জানান তিনি।
সংবিধান ও গঠনতন্ত্র মেনে প্রতিটি জেলা কমিটি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানও সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়েছেন।
জনগণের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দল গোছানোর কাজও সমানতালে চলবে।
বিভাগওয়ারী সাংগঠনিক দুর্বলতার সামগ্রিক বিবরণ
ঢাকা ও ফরিদপুর অঞ্চলের ১৭টি সাংগঠনিক ইউনিটের প্রতিটিরই মেয়াদ শেষ।
চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলের ১৫টি ইউনিটের প্রায় সবকটি কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ।
রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বেশিরভাগ জেলা কমিটিতেও একই করুণ চিত্র বিরাজ করছে।
বরিশাল বিভাগের আটটি ইউনিটের মধ্যে কেবল একটির মেয়াদ রয়েছে বর্তমানে।
রংপুর ও সিলেট বিভাগের জেলা কমিটিগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক ও দুর্বল।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের বেশিরভাগ জেলা ও মহানগরের কমিটি দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদহীন।
