নওগাঁ-৩ আসনের এমপি ফজলে হুদার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম।
নওগাঁয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে: এমপিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন চরম আকার ধারণ করেছে। নওগাঁ-৩ অর্থাৎ মহাদেবপুর ও বদলগাছী আসনের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এক শীর্ষস্থানীয় বিএনপি নেতা। বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি প্রস্তুতি সভায় প্রকাশ্যে এই ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। নেতার এমন আক্রমণাত্মক ও উত্তপ্ত বক্তব্য খুব দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
প্রস্তুতি সভায় রবিউল আলমের বিস্ফোরক বক্তব্য
মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গত সোমবার সন্ধ্যায় ওই প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির প্রধান রবিউল আলম বর্তমান সংসদ সদস্য ফজলে হুদার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর তা সাধারণ মানুষের নজর কাড়ে। ভিডিওতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়। দলীয় ফোরামে এমন বক্তব্য কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
“রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অত্যন্ত জরুরি। জনগণের অধিকার রক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলা আমাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব।”
আর্থিক অনিয়মের হিসাব তারেক দলের হাইকমান্ডে পাঠানোর হুশিয়ারি
বক্তব্যের সময় রবিউল আলম অত্যন্ত চড়া সুরে জানান যে গত আট-নয় মাসে এমপি কীভাবে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তার পুরো হিসাব রয়েছে। কোন ব্যাংক থেকে ড্রাফটের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁর কাছে সংরক্ষিত আছে। এই সমস্ত দুর্নীতির প্রমাণাদি এবং ব্যাংক ড্রাফটের হিসাব সরাসরি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পেশ করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতার এই কঠোর অবস্থান দলের ভেতরের গ্রুপিংকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
খাদ্য গোডাউন ও সারের ডিলারশিপে দুর্নীতির অভিযোগ
অভিযোগের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে রবিউল আলম আরও দাবি করেন যে সাবেক সংসদ সদস্যদের চেয়েও বর্তমান এমপি অনেক বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন। বিশেষ করে একটি খাদ্য গোডাউন থেকে তিন কোটি টাকার ওপরে লোপাট করার সুনির্দিষ্ট নথি তাঁর হাতে রয়েছে বলে জানান। এছাড়া সারের ডিলারশিপ বাণিজ্য এবং নানা উন্নয়নমূলক কাজের নামে ভুয়া বিল তোলার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে বলে সভায় হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
এমপি ফজলে হুদার প্রতিক্রিয়া ও উন্মুক্ত রাজনীতির কথা
পুরো বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন অভিযুক্ত সংসদ সদস্য ও বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলে হুদা।
তিনি শান্ত ভঙ্গিতে জানান যে রাজনীতিতে মতপার্থক্য ও এমন রাজনৈতিক বক্তব্য আসতেই পারে।
বর্তমান বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ও তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি দেশ।
তাই লুকোচুরির কিছু নেই উল্লেখ করে তিনি প্রতিপক্ষ নেতাকে প্রমাণসহ জাতির সামনে আসার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকেরাও স্বাধীনভাবে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্থানীয় রাজনীতিতে মেরুকরণ এবং ভবিষ্যৎ পরিণতির শঙ্কা
দলের শীর্ষ নেতাদের এমন প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ এবং মারমুখী অবস্থান মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের অস্বস্তিতে ফেলেছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের অভ্যন্তরীণ এই অনৈক্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
সাধারণ ভোটার ও সচেতন নাগরিকেরা আশা করছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করবেন।
অন্যথায় এলাকার সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও বেশি অবনতির দিকে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
