১৫ বছরের অপপ্রচার ভেঙে দিয়েছে বাস্তবতা। রাতের ভোট থেকে ব্যাংক খেলাপি ঋণ—যারা আওয়ামী লীগকে অভিযুক্ত করেছে, তারাই ক্ষমতায় এসে প্রমাণ করেছে তারা নির্বাচন ও অর্থনীতি কোনোটাই বোঝে না।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচন সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু সাম্প্রতিক এক বছরে আমরা যা দেখেছি, তা শুধু রাজনৈতিক ভণ্ডামি নয়—বরং জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়ানোর এক সুপরিকল্পিত প্রচারণা ভেঙে পড়ার চিত্র।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী দলগুলোর অন্যতম প্রধান অভিযোগ ছিল “রাতের ভোট”।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিদেশি লবিং—সবখানেই এই শব্দবন্ধ দিয়ে গলা ফাটানো হয়েছিল।
উদ্দেশ্য ছিল একটি নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, যাতে আন্তর্জাতিক মহলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।
কিন্তু ক্ষমতায় এসে সেই বিরোধী শিবিরেরই সামনে প্রশ্ন দাঁড়াল—এখন কেন তারা স্বচ্ছ নির্বাচনের পথ মাড়াতে ভয় পাচ্ছে?
বাংলাদেশের মত আধুনিক প্রজাতন্ত্রে, যেখানে ভোটার তালিকা ডিজিটাল, বুথে সিসিটিভি ও ইভিএম ব্যবহৃত হয়, সেখানে “ব্যাপক কারচুপি” প্রায় অসম্ভব।
বাস্তবতা হলো—এখনকার শাসকগোষ্ঠী জানে, স্বচ্ছ নির্বাচনে তাদের বিজয়ের সম্ভাবনা নেই।
তাই “রাতের ভোট” অভিযোগ ছিল কেবল একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার, যা পরিস্থিতি বদলালে নিজেরাই ব্যবহার করার সুযোগ হারিয়েছে।
শুধু নির্বাচন নয়, অর্থনীতিতেও বিরোধীদের অভিযোগের পাহাড় ছিল।
১৫ বছরে আওয়ামী লীগকে বারবার অভিযুক্ত করা হয়েছে ব্যাংকিং খাতে “খেলাপি ঋণের মহামারী” সৃষ্টির জন্য।
কিন্তু এক বছরের বাস্তবতা আরও ভয়ঙ্কর—পূর্ববর্তী ১৫ বছরে যে পরিমাণ খেলাপি ঋণ জমা হয়েছিল, তার প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে এক বছরের মধ্যেই।
এখানে মূল সমস্যা দুটি—
প্রথমত, বর্তমান প্রশাসনের নীতি-অদক্ষতা; দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার প্রতি অজ্ঞতা।
যারা ক্ষমতার বাইরে থেকে ব্যাংকিং নীতি নিয়ে মুখর ছিলেন, তারা ক্ষমতায় এসে বুঝেছেন অর্থনীতি কেবল মাইকে স্লোগান দিয়ে চালানো যায় না।
ঋণ পুনঃতফসিল নীতি, খেলাপিদের আইনি সুবিধা ও ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা—এসব বিষয় বাস্তব জ্ঞান ছাড়া বোঝা যায় না।
এখানে আরও একটি মনস্তাত্ত্বিক দিক রয়েছে—যারা বছরের পর বছর আওয়ামী লীগবিরোধী প্রচারণায় নিজেদের সম্পৃক্ত রেখেছিলেন, তারা এখন এক প্রকার মানসিক প্রতিশোধে অন্ধ।
ফলাফল, নীতি-ভিত্তিক শাসনের পরিবর্তে চলছে প্রতিহিংসা-ভিত্তিক প্রশাসন।
এমন শাসন পদ্ধতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক আস্থার মজবুত ভিত।
বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ এই রাজনৈতিক অপরিণামদর্শিতার শিকার হচ্ছে, আর রাষ্ট্র হারাচ্ছে মূল্যবান সময় ও সম্পদ।
বাংলাদেশের নির্বাচন বা অর্থনীতির সংকট এক দিনে তৈরি হয়নি, কিন্তু আজকের শাসকগোষ্ঠীর হাতে পরিস্থিতি যে ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে, তা স্পষ্ট।
যারা ১৫ বছর ধরে “রাতের ভোট” ও “খেলাপি ঋণ” নিয়ে গলা ফাটিয়েছেন, তাদের ক্ষমতায় এসে এই দুই ক্ষেত্রেই ব্যর্থতা প্রমাণ করছে—এরা শুধু রাজনৈতিক প্রচারণায় পারদর্শী, বাস্তব শাসনে নয়।
