২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশে ২৫৯ শিশু খুন ও ৩০৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পরিসংখ্যান ও বিশেষজ্ঞ মতামত বিশ্লেষণে উঠে এসেছে পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের গভীর সংকেত।
বাংলাদেশে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি–জুলাই) ২৫৯ শিশু নৃশংসভাবে খুন হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের চাইল্ড হেল্পলাইনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শিশুদের প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের প্রবণতা বেড়েছে উদ্বেগজনকভাবে।
চাইল্ড হেল্পলাইনে এ সহায়তার জন্য ফোন এসেছে ২৬ হাজার ১০০টি, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাত হাজার বেশি।
ধর্ষণের শিকার শিশুদের সংখ্যা ৩০৬—যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
যদিও শিশুহত্যার সংখ্যা গত বছরের (৩২৫) তুলনায় কিছুটা কম, তবুও ২৫৯টি প্রাণহানি দেশের জন্য গভীর সংকেত।
একাধিক ঘটনায় যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে শিশুদের। তুচ্ছ কারণে, যেমন মোবাইল গেম বা ক্ষুদ্রপারিবারিক দ্বন্দ্বেও খুনের নজির রয়েছে।
এই প্রবণতা সামাজিক অবক্ষয় ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।
আসকের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, “এটি শুধু আইন ও ন্যায়ের ব্যর্থতা নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক ব্যর্থতা।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. খায়রুল চৌধুরীর মতে, “জনগণকে সম্পৃক্ত করে শিশুদের বিষয়ে সংবেদনশীলতা আনতে রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হতে হবে।”
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সাল থেকে চাইল্ড হেল্পলাইনে কলের সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
এটি একদিকে সচেতনতার বৃদ্ধি নির্দেশ করে, অন্যদিকে সহিংসতার প্রসারও তুলে ধরে। শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে পরিবারের মধ্যে ভালোবাসাপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি,
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দ্রুত বিচার ও সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।
