অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নাম পরিবর্তন কাণ্ড শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাংলাদেশের বর্তমান আইনি ও প্রশাসনিক অরাজকতার প্রতিচ্ছবি। ৪২ বছর পর এসএসসি-এইচএসসি সনদে নাম পরিবর্তন, কোন যাচাই ছাড়াই, কীভাবে সম্ভব হলো—এই প্রতিবেদনে রয়েছে পূর্ণ বিশ্লেষণ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনেক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ড যেভাবে রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসন এবং নৈতিকতার সীমা লঙ্ঘন করছে, তা অভূতপূর্ব। এরই এক তাজা উদাহরণ—আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নাম পরিবর্তন কাণ্ড।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কলামিস্ট এবং বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত আসিফ নজরুলের আসল নাম মোঃ নজরুল ইসলাম।
এই নামেই তিনি ১৯৮০ সালে এসএসসি ও ১৯৮২ সালে এইচএসসি পাশ করেন।
চাকরি, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র—সব দাপ্তরিক নথিতে ছিল এই নামই।
তবে সাংবাদিকতার শুরুতে ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’য় কাজ করার সময় নামটিকে আধুনিক শোনাতে ‘আসিফ নজরুল’ নাম ব্যবহার শুরু করেন—কিন্তু সেটি কখনো আইনি বা অফিসিয়ালভাবে পরিবর্তন করেননি।
প্রশ্ন উঠছে—
৪২ বছর পর হঠাৎ নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন কেন?
এর উত্তর পাওয়া যায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায়।
অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন ‘আসিফ নজরুল’ নামে, এবং গেজেটেও সেটি ব্যবহার হয়েছে।
কিন্তু আইনত এই নামে তার কোনো অস্তিত্ব ছিল না।
ফলে সরকারের নিয়োগ ও শপথ প্রক্রিয়া আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারত।
এখন, এই সমস্যার সমাধানে শিক্ষা বোর্ডে তড়িৎ গতিতে আবেদন করে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ০৯-০৯-২০২৪ তারিখে নাম পরিবর্তনের অনুমোদন পান।
আশ্চর্যের বিষয়—কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই, প্রমাণপত্র, কিংবা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই এই অনুমোদন মেলে।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের নাম পরিবর্তনের জন্য আদালতের অনুমোদন, সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং সঠিক কারণ দেখানো বাধ্যতামূলক।
এছাড়া, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সনদে নাম পরিবর্তন একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা সাধারণত ধর্মান্তর, বানান সংশোধন বা পারিবারিক শিরোনাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে হয়।
কিন্তু এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই এবং আইনি ধাপ এড়িয়ে শিক্ষা বোর্ড পরিবর্তন মঞ্জুর করেছে—যা প্রশাসনিক দুর্নীতির স্পষ্ট উদাহরণ।
এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত নাম পরিবর্তনের ঘটনা নয়—বরং পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে হাতের মুঠোয় নিয়ে চলা একদল ক্ষমতালোভী ব্যক্তির ক্ষমতার অপব্যবহার।
মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে শপথ ও নিয়োগের প্রজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলা, শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পরিবর্তিত তথ্য রেখে যাচাই প্রক্রিয়া আড়াল করা—সবকিছুই প্রমাণ করে যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার স্বচ্ছতা ও আইন মানার কোনো ইচ্ছাই রাখে না।
একজন ব্যক্তি যিনি নিয়মিত ধর্মীয় মূল্যবোধের কথা বলেন, নিজের নাম থেকে ‘মোহাম্মদ’ বাদ দিয়ে দেন সামান্য রাজনৈতিক সুবিধার জন্য—এটি ব্যক্তিগত নৈতিকতারও প্রশ্ন তোলে।
শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, রাষ্ট্রীয়ভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ জনগণের বিশ্বাস ধ্বংস করে দেয়।
আসিফ নজরুলের নাম পরিবর্তন কেবল একটি আইনি কাগজে লেখা কিছু অক্ষরের বদল নয়—
এটি বাংলাদেশের বর্তমান অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের আইনি অরাজকতা, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি।
এই ঘটনাটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও আইনি ইতিহাসে একটি স্পষ্ট দলিল হয়ে থাকবে যে, কিভাবে ক্ষমতার জোরে সবকিছু বদলে ফেলা যায়—যদিও তা সংবিধান, আইন ও নৈতিকতার পরিপন্থী হয়।
