জাতীয় শোক দিবসে বাধা, ইতিহাস বিকৃতি, গণমাধ্যম দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদের তীব্র প্রতিবাদ। ইউনুস সরকারের স্বৈরাচারী শাসনকে দায়ী করে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৫ আগস্ট একটি শোকাবহ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঘাতকচক্রের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার। সেই ভয়াল হত্যাকাণ্ড শুধু একজন রাষ্ট্রনেতাকে হত্যা করেনি, বরং বাঙালি জাতির মুক্তির সংগ্রামকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী প্রতিটি নাগরিকের কাছে দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পরম শ্রদ্ধায় পালন করা হয়।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শোক দিবস পালনে যে বাধা ও সাংস্কৃতিক দমননীতি চালু হয়েছে, তা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে,
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী ইউনুস সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দমন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বৈরতন্ত্রের অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে।
জাতীয় শোক দিবস শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্মৃতির কেন্দ্রবিন্দু।
এই দিনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা মানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত হানা এবং ইতিহাসকে কলঙ্কিত করা।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ স্পষ্ট ভাষায় বলেছে—জাতীয় শোক দিবসে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করেছে যে তারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চক্রের উত্তরসূরি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
সাংস্কৃতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ, সাংবাদিকদের গ্রেফতার, গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা দেওয়া—সবই একটি পরিকল্পিত সাংস্কৃতিক দমননীতির অংশ।
এতে শুধু শিল্প-সাহিত্য নয়, বাঙালি জাতির সার্বিক চেতনা ও মুক্তির ইতিহাসকেই ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।
অভিযোগ উঠেছে,
এই শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি বাতিল, মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনা ভাঙচুর, এমনকি ধানমন্ডি ৩২-এ আক্রমণের মতো ঘটনা ঘটেছে।
এসব কর্মকাণ্ড জাতির আত্মত্যাগী সন্তানদের প্রতি এক চরম অবমাননা।
ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে একটি নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার আয়োজন করা হচ্ছে।
সাংস্কৃতিক পরিষদের বিবৃতিতে বিদেশি ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
তাদের মতে,
ইউনুস সরকার দেশি-বিদেশি স্বার্থে ক্ষমতা দখল করে দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করছে।
এর প্রভাব শুধু জাতীয় রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সাংস্কৃতিক পরিষদ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে—
- জাতীয় শোক দিবসে বাধার দায় ইউনুস সরকারের।
- গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের দমননীতি বন্ধ করতে হবে।
- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
- মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।
তাদের আহ্বান, দেশের মুক্তিকামী ও দেশপ্রেমিক মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় শোক দিবস কেবল শোকের নয়, বরং আত্মমর্যাদা ও জাতীয় চেতনা রক্ষার প্রতীক।
আজ যদি সেই দিনটি পালনে বাধা দেওয়া হয়, তবে তা আমাদের ইতিহাসের ওপর নতুন করে কালিমা লেপনের সমান।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদের প্রতিবাদ শুধু একটি সংগঠনের বক্তব্য নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সকল মুক্তিকামী মানুষের চেতনার প্রতিফলন।
স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শেকড় রক্ষায় সাংস্কৃতিক আন্দোলনই একমাত্র শক্তি। ইতিহাস প্রমাণ করেছে—যে জাতি তার সংস্কৃতি ও চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে, সেই জাতিকে কখনো দমিয়ে রাখা যায় না।
