২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড ও ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল মার্কিন রঙিন বিপ্লবের অংশ। বিএনপি-জামাত ও পাকিস্তানপন্থি সেনা চক্র শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। ভারতের হস্তক্ষেপে ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দুইটি ভয়াবহ অধ্যায় সবসময়ই গভীর ষড়যন্ত্রের ছায়ায় আচ্ছন্ন—২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংস আন্দোলন। এই দুই ঘটনাই কেবল সাময়িক অস্থিরতা নয়, বরং ছিল দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পিত “মার্কিন রঙিন বিপ্লব”-এর অংশ, যার মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে ধ্বংস করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে ফেলা এবং রাষ্ট্রকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেওয়া।
২০০৭-৮ সালের সামরিক শাসন বা ১/১১ সরকারের সময় থেকেই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়।
সেই পরিকল্পনার বাস্তব রূপ দেখা যায় ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে, যখন ঢাকার পিলখানায় সংঘটিত হয় ভয়াবহ বিডিআর হত্যাকাণ্ড।
বিডিআর হত্যাকাণ্ড: ১/১১ এর উত্তরসূরি চক্রান্ত
২০০৭-০৮ সালের সেনা সমর্থিত ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকেই পরিকল্পনা হয়েছিল কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে ধ্বংস করা যায়।
সেই সূত্রে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটে ভয়াল হত্যাযজ্ঞ।
শহীদ সেনা কর্মকর্তারা সবাই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, আওয়ামী লীগ মতাদর্শে দৃঢ়, এবং রাষ্ট্রনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক।
পরিকল্পনা ছিল, শেখ হাসিনার নবগঠিত সরকারকে অস্থিতিশীল করে সেনাবাহিনীর ক্ষোভ উসকে দেওয়া।
যাতে করে হয় আদালত-নাটকের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা যায়, নয়তো সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে বিদ্রোহের ঢেউ তুলে গণঅভ্যুত্থানের ছদ্মবেশে তাকে সরিয়ে ফেলা যায়।
কিন্তু ভারতীয় সেনাবাহিনীর কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা হস্তক্ষেপ সেই ছক ব্যর্থ করে দেয়।
ফলে শেখ হাসিনা রক্ষা পান, আর বাংলাদেশ আরেকটি ১৫ আগস্টের মতো বিপর্যয় থেকে বেঁচে যায়।
মূল উদ্দেশ্য ছিল
সেনাবাহিনী ও আওয়ামী লীগ সরকারের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করা।
শেখ হাসিনাকে পদত্যাগে বাধ্য করা।
সেনাবাহিনীর ভেতরে ক্ষোভের জন্ম দিয়ে শেখ হাসিনা কে হত্যা করা।
তবে এই ষড়যন্ত্র ভেস্তে যায় যখন ভারতের কূটনৈতিক ও সামরিক হস্তক্ষেপ সরাসরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফলে শেখ হাসিনা রক্ষা পান এবং বাংলাদেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
২০২৪ সালের আন্দোলন:
ইতিহাস যেন নিজেকে আবারও পুনরাবৃত্তি করল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে।
বিএনপি-জামাত, পাকিস্তানপন্থী প্রাক্তন সামরিক চক্র এবং বিদেশি প্রভুদের ছত্রছায়ায় দেশের ভেতরে “রঙিন বিপ্লব”-এর আগুন জ্বালানো হয়।
একই রঙিন বিপ্লবের দ্বিতীয় ধাপ ছিল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন।
বিএনপি-জামাত ও পাকিস্তানি প্রভাবিত অবসরপ্রাপ্ত সেনা নেটওয়ার্ক এ আন্দোলনকে জ্বালানি যোগায়।
লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে অপমান করা, তার মর্যাদাকে ভেঙে চুরমার করা এবং সুযোগ পেলে হত্যার ছক বাস্তবায়ন করা।
পরিকল্পনা ছিল—সফল হলে একটি “জুলাই সনদ” তৈরি করা হবে, যা হবে নতুন পাকিস্তানি ধারার রাষ্ট্রীয় নীলনকশা।
কিন্তু এখানেও ভারতের সরাসরি হস্তক্ষেপে পুরো চক্রান্ত ভেস্তে যায়।
জুলাই সনদ আজ ইতিহাস নয়, বরং রাষ্ট্রবিরোধী আসামির জবানবন্দীতে রূপ নিয়েছে।
মূল পরিকল্পনা ছিল:
শেখ হাসিনাকে পদত্যাগে বাধ্য করা।
গণঅভ্যুত্থানের নামে তার মর্যাদা ভেঙে অপমানজনক হত্যার পথ তৈরি করা।
ভারতের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে বাংলাদেশকে আবারও পাকিস্তানি অক্ষের দিকে ঠেলে দেওয়া।
কিন্তু ভারতের গোয়েন্দা তৎপরতা ও কৌশলগত পদক্ষেপে এ পরিকল্পনাও ব্যর্থ হয়।
ফলে বিএনপি-জামাতের তথাকথিত “জুলাই সনদ” হয়ে দাঁড়ায় রাষ্ট্রবিরোধী আসামিদের জবানবন্দী।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যত বড় বড় ষড়যন্ত্র হয়েছে, তার প্রতিটি অধ্যায়ের পেছনে বিএনপিকে পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশে প্রতিটি অভ্যন্তরীণ ধ্বংসাত্মক ঘটনার কেন্দ্রে বিএনপি।
বিডিআর হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের আন্দোলন—সবখানেই বিএনপি সেই ট্রোজান হর্স, যে রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির প্রতিনিধি হয়ে কাজ করেছে।
১৯৭৫-এর পর থেকে পাকিস্তানি সামরিক ভাবধারাকে লালন করে তারা প্রতিবারই মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে ধ্বংসের চেষ্টা করেছে।
জঙ্গি ও উগ্রবাদকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, বিদেশি শক্তির ক্রীড়নক হয়েছে।
২০০১-২০০৬ সময়কালে জঙ্গিবাদের উত্থান।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আওয়ামীলীগ এর সভানেত্রী কে হত্যার পরিকল্পনা
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা।
২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড।
২০২৪ সালের আন্দোলন।
সব ক্ষেত্রেই জামায়াত, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা এবং মার্কিন রঙিন বিপ্লব তত্ত্বের সাথে বিএনপির প্রত্যক্ষ যোগসূত্র ছিল।
২০০৯ ও ২০২৪—দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশকে ধ্বংস করার ব্লুপ্রিন্ট বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়েছিল।
কিন্তু শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্ব, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এবং ভারতের কৌশলগত সহায়তায় বাংলাদেশ বেঁচে যায়।
তাই ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়—বিএনপি সবসময়ই ধ্বংসের শক্তি, এবং এই শক্তির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।
প্রতিবারই টার্গেট ছিলেন শেখ হাসিনা।
তাকে হত্যা করা গেলে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, পুরো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসই মুছে ফেলা যেত।
কিন্তু ভারত ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির সতর্ক অবস্থান প্রতিবারই সেই চক্রান্ত ব্যর্থ করেছে।
বাংলাদেশ আজ টিকে আছে মূলত শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্ব ও আঞ্চলিক কৌশলগত মৈত্রীর কারণে।
