শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র থেকে শুরু করে বিডিআর বিদ্রোহ, এনজিও-মিডিয়া নেক্সাস, মার্কিন ও পাকিস্তানি ভূরাজনৈতিক কৌশল—সবই প্রমাণ করছে বাংলাদেশকে আস্তে আস্তে ইরাক ও ইউক্রেনে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে।
২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর ইরাকের মাটিতে যে বিপর্যয় নেমে এসেছিল, সেটি শুধু একটি রাষ্ট্রকে ধ্বংস করেনি, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে নৈরাজ্যে ঠেলে দিয়েছিল। একই ধাঁচে, বাংলাদেশের উপরও ধাপে ধাপে চাপানো হচ্ছে এক সুপরিকল্পিত ভূ-রাজনৈতিক ফাঁদ। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র, বিডিআর বিদ্রোহ, এনজিও-মিডিয়া নেক্সাস এবং মার্কিন-পাকিস্তানি সামরিক কৌশল সবই সেই “আস্তে আস্তে ইরাক” প্রক্রিয়ার অংশ।
২০২৫ সালের ৫ অগাস্টের ঘটনায় স্পষ্ট দেখা গেল—
শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল মব বা জনতার হাতে।
পরিকল্পনা ছিল তাঁকে হত্যা করে শহরের রাস্তায় লাশ টেনে নেওয়া, ঠিক যেমনটি হয়েছিল ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের ক্ষেত্রে।
এর উদ্দেশ্য ছিল একটি গৃহযুদ্ধ বাধানো, আওয়ামী লীগের কর্মীদের নিশ্চিহ্ন করা এবং মুক্তিযুদ্ধপন্থী শক্তিকে নীরব করে দেওয়া।
এটি কোনও আকস্মিক ষড়যন্ত্র নয়।
বরং ২০০৭-০৮ এর ১/১১ শাসনকাল থেকে জামাত-বিএনপি, পাকিস্তানি সেনা এবং তাদের বিদেশি সহযোগীদের মাধ্যমে এই রূপরেখা তৈরি হয়েছিল।
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় ঘটে যাওয়া বিডিআর বিদ্রোহ ছিল আসলে ইন্দোনেশিয়ার “জাকার্তা মেথড”-এর বাংলাদেশি সংস্করণ।
উদ্দেশ্য একই—
রাষ্ট্রযন্ত্রকে অকেজো করে দেওয়া, পুলিশ ও সেনার মধ্যে বিভাজন তৈরি, এবং আওয়ামী লীগকে রক্তাক্তভাবে শেষ করে দেওয়া।
এমনকি এই পরিকল্পনার মূলে ছিল পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ও তাদের ঐতিহাসিক পরাজয়ের প্রতিশোধস্পৃহা।
জামাত-শিবির-বিএনপি ছিল শুধু এজেন্ট; প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ ছিল আইএসআই-এর হাতে।
২০০৯ এর পর থেকে এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয় মার্কিন কৌশল।
সিআইএ-র সাই-অপস ট্যাকটিক, জর্জ সোরসের নেটওয়ার্ক এবং ইউএসএআইডি এর মাধ্যমে তৈরি করা হয় সফট পাওয়ার নেক্সাস।
সিপিডি, টিআইবি, ডেইলি স্টার, প্রথম আলো প্রভৃতি সংগঠন ও পত্রিকা—রাজনীতিকে দুর্বল করার নামে বাস্তবে কাজ করেছে অ্যান্টি-পলিটিক্যাল নেক্সাস হিসেবে।
এই প্রচারণা মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ—জনমতকে বিভ্রান্ত করা, শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং স্বাধীনতার পক্ষশক্তিকে দুর্বল করা।
এই প্রকল্পের সর্বোচ্চ লক্ষ্য—
বঙ্গোপসাগর দখল এবং বাংলাদেশকে একটি মার্কিন কলোনিতে রূপান্তর।
পাকিস্তান এখানে দ্বিতীয় খেলোয়াড়, যাদের মূল লক্ষ্য ভারতকে দুর্বল করা।
রোহিঙ্গা ইস্যু ও মিলিশিয়া সৃষ্টির মাধ্যমে পূর্ব ভারত ও “সেভেন সিস্টার্স” রাজ্যগুলোতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
ভারতের জন্য এটি সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি হলেও আশ্চর্যের বিষয়, ভারত কৌশলগত নীরবতায় রয়েছে।
আজকের ইরাক মডেল থেকে ধাপে ধাপে বাংলাদেশকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে ইউক্রেন মডেলের দিকে।
অস্ত্র সরবরাহ
ইসলামী মিলিশিয়া সৃষ্টি
ভৌগোলিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি
এই প্রকল্পের অর্থায়নে রয়েছে “দুটি নোবেল”—যার প্রতীকী ইঙ্গিত বোঝাই যায়—এবং দাভোসের শক্তিধর বৈশ্বিক খেলোয়াড়রা।
বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে এই ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করা।
ইরাক যেমন সাদ্দাম পতনের পর রক্তাক্ত দোজখে পরিণত হয়েছে, বাংলাদেশকেও একই পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন—আমরা কি সময় থাকতে বুঝতে পারব, নাকি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়ে বাংলাদেশও ইউক্রেন ও ইরাকের মতো বিদেশি ভূরাজনীতির পরীক্ষাগারে পরিণত হবে?
