মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে নতুন সংকট—সরকারঘনিষ্ঠ এজেন্সি সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ১৭ হাজার শ্রমিকের ভাগ্য অনিশ্চিত। খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত গত কয়েক দশক ধরে দেশের অর্থনীতির প্রধান ভরসা। কিন্তু সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া গমন প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ১৭ হাজার শ্রমিকের ভাগ্য ঝুলে গেছে সরকারঘনিষ্ঠ এজেন্সি সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলের হাতে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বোয়েসেল (BOESL)-এর প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে সরকারঘনিষ্ঠ কিছু এজেন্সি নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করছে।
বোয়েসেল যখন সরাসরি কর্মী পাঠানোর চেষ্টা করে, তখনই ক্ষমতাসীন মহলের আশ্রয়ে থাকা এজেন্সি সিন্ডিকেট চাপ সৃষ্টি করে।
এর ফলে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগেও অযথা জটিলতা তৈরি হয়।
বোয়েসেলের নির্বাহী পরিচালক শওকত আলীর স্বীকারোক্তি থেকেই স্পষ্ট—বাংলাদেশের শ্রমবাজার কার্যত একটি সিন্ডিকেটের কব্জায়।
কেবল সরকারঘনিষ্ঠ মহল নয়, বিরোধী রাজনৈতিক ঘরানার প্রভাবও এখানে যুক্ত হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী নেতা সৈয়দ গোলাম সরোয়ার ও তার নিয়ন্ত্রণাধীন সিন্ডিকেট শ্রমবাজারে প্রভাব বিস্তার করছে।
এমনকি এনসিপি’র কিছু নেতাকর্মীও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে।
ফলে শ্রমবাজার এখন রাজনৈতিক অর্থনীতির দখলদারিতে পরিণত হয়েছে।
শ্রমিকদের মূল অভিযোগ—যেখানে কেবল বিমানভাড়া দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে সার্ভিস চার্জ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সাক্ষাৎকার বাবদ অতিরিক্ত ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে।
এই অযৌক্তিক খরচ শ্রমিকদের চরম হতাশায় ফেলেছে।
পটুয়াখালীর রাব্বি হোসেনের মতো শ্রমিকরা প্রশ্ন তুলেছেন—সরকার চাইলে বিনা খরচে পাঠানো সম্ভব, কিন্তু সরকার বরং সিন্ডিকেটকে বাঁচাতে শ্রমিকদের কাঁধে অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়েছে।
ডিসেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার ও ফ্লাইট—সব মিলিয়ে শ্রমিকদের বাদ পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
সরকার চাইলে সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্য খরচে কর্মী পাঠানো সম্ভব।
কিন্তু বাস্তবে সরকারঘনিষ্ঠ মহলই সিন্ডিকেটকে শক্তিশালী করছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলের দৌরাত্ম্য।
ফলে শ্রমিকরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন দ্বিমুখী দখলদারির কাছে।
মালয়েশিয়া যাওয়ার স্বপ্ন হাজারো শ্রমিকের কাছে এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
তাদের সর্বস্বান্ত হওয়ার দায় বহন করছে কেবল সরকারঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেট নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহলও।
শ্রমবাজার যদি এভাবেই স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হয়, তবে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত ক্রমেই শ্রমিকের বদলে সিন্ডিকেটের মুনাফার খাতায় পরিণত হবে।
