মানামা ডায়ালগে টুলসি গ্যাবার্ড ঘোষণা দেন—আমেরিকার রেজিম চেঞ্জ ও বিদেশি জাতি গঠনের যুগ শেষ। ব্যর্থ নীতি এনেছে অনিরাপত্তা ও সন্ত্রাসের উত্থান।
বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর সিকিউরিটি স্টাডিজ (IISS) আয়োজিত বার্ষিক নিরাপত্তা সম্মেলন ‘মানামা ডায়ালগ’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কংগ্রেস সদস্য টুলসি গ্যাবার্ড বলেন—“ওয়াশিংটনের পুরোনো ‘রেজিম চেঞ্জ’ ও আমাদের পছন্দমতো শাসনব্যবস্থা বা জাতি সৃষ্টির যুগ শেষ।”
তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত “ডেমোক্রেসি বিল্ডিং” নীতি বাস্তবে ছিল সামরিক হস্তক্ষেপ ও কৃত্রিম শাসনব্যবস্থা তৈরির প্রচেষ্টা। যার ফল হয়েছে উল্টো—
👉 বন্ধুর চেয়ে শত্রুর সংখ্যা বেড়েছে,
👉 ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার অপচয় হয়েছে,
👉 এবং সবচেয়ে ভয়াবহ, সৃষ্টি হয়েছে আইএসআইএস-এর মতো সন্ত্রাসী সংগঠন।
‘রেজিম চেঞ্জ’ নীতির পরিণতি: বিশৃঙ্খলা ও অবিশ্বাস
গ্যাবার্ড বলেন, ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া এবং লিবিয়ার অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নিজের আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার এক ব্যর্থ পরীক্ষা ছাড়া কিছুই নয়।
তিনি বলেন, “আমাদের হস্তক্ষেপে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ গেছে, অসংখ্য দেশ আজো অস্থিতিশীল।
এই নীতির পরিণতি—একটা বিপর্যয়।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ধীরে ধীরে তার “গ্লোবাল পুলিশিং” ভূমিকা থেকে সরে আসছে এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতি পুনর্গঠনে মনোযোগ দিচ্ছে।
এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বরং পুরো আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভারসাম্যে একটি নতুন যুগের সূচনা।
বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ধারা: শক্তির পুনর্বিন্যাস
বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো—বিশেষত চীন, রাশিয়া ও ইরান—এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছে।
তারা দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার “রেজিম চেঞ্জ” নীতিকে একধরনের “নিও-ইম্পেরিয়ালিজম” বলে আসছিল।
এখন গ্যাবার্ডের বক্তব্য সেই সমালোচনাকে কার্যত স্বীকৃতি দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন,
- চীন অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর মাধ্যমে নরম শক্তি (soft power) ব্যবহার করছে,
- রাশিয়া কৌশলগত জোট বাড়াচ্ছে,
- আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন তার পুরোনো নীতির ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের পর্যায়ে।
‘মানামা ডায়ালগ’: নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত
মানামা ডায়ালগ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সম্মেলন, যেখানে অংশ নেয় বিশ্বের শীর্ষ কূটনীতিক, সামরিক বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা।
এই ফোরামে গ্যাবার্ডের বক্তব্য অনেকের মতে, মার্কিন নীতির দিক পরিবর্তনের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি।
তিনি আরও বলেন,
“আমাদের উচিত অন্য দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন নয়, বরং নিজেদের জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করা।”
এই বার্তাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন জনগণ নিজেরাই বৈদেশিক যুদ্ধ ও সামরিক ব্যয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে।
এক নীতির অবসান, নতুন বাস্তবতার সূচনা
গ্যাবার্ডের বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়; এটি একটি যুগের সমাপ্তির ঘোষণা।
বিশ্ব এখন এমন এক সময়ের মুখোমুখি, যেখানে “রেজিম চেঞ্জ” নয়, বরং “ডিপ্লোম্যাটিক এঙ্গেজমেন্ট”—অর্থাৎ কূটনৈতিক সংলাপ ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই টিকে থাকবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক।
“আমেরিকার জন্য এখন সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হলো নিজের নীতির সঙ্গে নিজের বিবেকের সমন্বয় ঘটানো।”
IISS Official Site: Manama Dialogue 2025 – Opening Session
Al Jazeera Analysis: “US Policy Shift: The End of Regime Change Era?”
Reuters Report: “Tulsi Gabbard at Manama Dialogue Calls for End to Interventionist Policies”
BBC News: “America’s New Foreign Policy Tone from Bahrain Summit”
