মাগুরার স্কুলে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা ঠেকাল ছাত্ররা। ‘তুমিও জানো, আমিও জানি— রাজাকার মানে পাকিস্তানি’ স্লোগানে গর্জে উঠল তরুণ প্রজন্ম।
মাগুরা প্রতিনিধি:
মাগুরার সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের শিক্ষাঙ্গনে শুক্রবার সকালে ঘটেছে এক অনন্য দৃশ্য। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কতটা জীবন্ত—তার জোরালো প্রমাণ দিয়েছে এই প্রজন্মের কিশোর ছাত্ররা। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের সকালের এসেম্বলিতে জামায়াতে ইসলামীর এক এমপি প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকরা ঢুকে পড়েন এবং নির্বাচনী প্রচারণার চেষ্টা করেন। কিন্তু মুহূর্তেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রসমাজ। তারা প্রতিবাদে দাঁড়িয়ে যায় এবং স্লোগানে গর্জে ওঠে—“এই দেশের স্কুলে পাকিস্তানের রাজনীতি চলবে না!”
ছাত্রদের প্রতিবাদে ভেসে গেল এসেম্বলি
বিদ্যালয়ের ইউনিফর্ম পরা শত শত শিক্ষার্থী একসাথে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়। তারা স্কুল প্রাঙ্গণেই প্রথমে মানববন্ধন করে, পরে শৃঙ্খলাবদ্ধ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দিকে যাত্রা করে।
মিছিল জুড়ে তারা একটাই স্লোগান তোলে—
“তুমিও জানো, আমিও জানি—রাজাকার মানে পাকিস্তানি।”
ছাত্রদের চাওয়া গুলো ছিল :
🔸 “দেশ বিক্রি করতে দেব না”
🔸 “বাংলাদেশে পাকিস্তানের এজেন্ট চলবে না”
🔸 “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের গর্ব”
এই দৃশ্য মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মন্তব্য করেন—
“এই প্রজন্মই আসল মুক্তিযুদ্ধের উত্তরসূরি।
প্রশাসনের ভূমিকা ও তদন্ত নির্দেশ
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন,
“এসেম্বলিতে বাইরের কেউ রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পারবেন না। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”
জেলা প্রশাসক জানান, ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “যদি সত্যি রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইতিহাস জানে নতুন প্রজন্ম
মাগুরার এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, স্বাধীনতার পর জন্ম নেওয়া প্রজন্মও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানে এবং তার মর্যাদা রক্ষায় সচেতন।
এই প্রজন্মের চোখে ‘রাজাকার মানে পাকিস্তানি সহযোগী’,
যাদের রাজনীতি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কখনোই মেনে নেবে না।
একজন প্রতিবাদী ছাত্র বলেন,
“আমরা বইয়ে মুক্তিযুদ্ধ পড়েছি, কিন্তু আজ নিজের চোখে বিশ্বাসঘাতকতা দেখেছি। এই দেশের স্কুলে পাকিস্তানের রাজনীতি শেখানো হবে না।”
জাতীয় প্রতিক্রিয়া ও জনমত
ঘটনাটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশংসার ঝড় উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন—
“যে দেশের স্কুলের ছাত্ররা রাজাকারদের চেনে, সে দেশকে কেউ দমন করতে পারবে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন,
এই ঘটনা তরুণদের মধ্যে জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণের ইঙ্গিত দেয়।
এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী প্রজন্মের মূল্যবোধ ও জাতিসত্তার প্রতি আনুগত্যের স্পষ্ট প্রতিফলন।
মন্তব্য:
মাগুরার ছাত্ররা প্রমাণ করলো—বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানের রাজনীতি বা রাজাকার এজেন্টদের ঠাঁই হবে না।
নতুন প্রজন্ম ইতিহাস জানে, আর জানে স্বাধীনতার মূল্য কতটা রক্তে লেখা।
