ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেহরিন আমিন ভূঁইয়া মোনামির বিরুদ্ধে ঘুষ দিয়ে নিয়োগ ও গবেষণাপত্র জালিয়াতির অভিযোগে তদন্ত দাবি করেছে বাংলাদেশ পাবলিক একাডেমি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরিন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)-এর বিরুদ্ধে ঘুষ দিয়ে শিক্ষকতার চাকরি পাওয়া, গবেষণাপত্র জালিয়াতি ও একাডেমিক প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার বাংলাদেশ পাবলিক একাডেমির ২৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে পৃথকভাবে স্মারকলিপি প্রদান করে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে
অভিযোগের মূল বিষয়: ঘুষের মাধ্যমে নিয়োগ
স্মারকলিপি অনুযায়ী, শেহরিন আমিন ভূঁইয়া প্রথমে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি নেন।
পরবর্তীতে ২০ লাখ টাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পান বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়, তৎকালীন নিয়োগে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও পিএইচডিবিহীন মোনামিকে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
গবেষণাপত্রে জালিয়াতি ও সেলফ-সাইটেশনের অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি অন্যের মাধ্যমে টাকা দিয়ে গবেষণাপত্র লিখিয়ে ভুঁইফোঁড় জার্নালে ছাপিয়েছেন।
বিশেষ করে “Population Growth vs Consumption Growth” এবং “A call for Greener Energy Consumption and Optimal Population Growth” শীর্ষক প্রবন্ধগুলো নিয়ে লেখকত্ব ও মৌলিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া, নিজের গবেষণার সাইটেশন বাড়াতে তিনি সেলফ-সাইটেশন ও ইনডিউসড সাইটেশন ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
পিএইচডি না থাকার পরও পদোন্নতি তদবির
অভিযোগে বলা হয়, পিএইচডি না থাকা সত্ত্বেও মোনামি পদোন্নতির জন্য প্রভাব খাটান ও ভুয়া আন্তর্জাতিক জার্নাল প্রকাশের মাধ্যমে একাডেমিক প্রোফাইল ভারি করেন।
এমনকি, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনে ২০২০ সালে তিনি পুনরায় মাস্টার্স করতে বাধ্য হন কারণ তিনি কোনো আন্তর্জাতিক পিএইচডি প্রোগ্রামে যোগ্য বিবেচিত হননি।
বাংলাদেশ পাবলিক একাডেমির দাবি
বাংলাদেশ পাবলিক একাডেমি জানিয়েছে, এই অভিযোগগুলো “কগনিজিবল ক্রিমিনাল অফেন্স” এবং ঢাবির সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে।
তারা দাবি করেছে, তদন্ত চলাকালীন তাকে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করতে হবে।
এ একাডেমির পক্ষ থেকে স্মারকলিপিতে ২৩ জন স্বাক্ষরকারী সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়, যাদের মধ্যে রয়েছেন ব্যারিস্টার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, ও গবেষকরা।
তারা ছিলেনঃ ১। আপন রহমান
২। ডক্টর অভিজিৎ দেব
৩। শাহরিয়ার মোস্তফা
৪। রুমানা হক
৫। ডক্টর হাসান আকবর
৬। আশিক তুহিন
৭। ব্যারিস্টার আছমা হক
৮। ব্যারিস্টার সাইফুজ্জামান খান টিপু
৯। অ্যাডভোকেট মনসুর ইকবাল
১০। ইকবাল হোসেন
১১। মনিষা ইশরাত
১২। অনুপ সাহা
১৩। খান সৈকত
১৪। সোনিয়া আক্তার
১৫। ডক্টর মনিরুজ্জামান আখন্দ
১৬। ব্যারিস্টার লুতফুল হক
১৭। শেখ বাহার উদ্দিন
১৮। লিমন লাল দাস
১৯। শরিফুল ইসলাম
২০। ডক্টর আব্দুস সালাম
২১। তসলিম উদ্দিন
২২। আজহারুল রুমন
২৩। নেসার উদ্দিন”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে এবং তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও রাষ্ট্রপতির সচিবালয় থেকেও অভিযোগ পর্যালোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
জনমতের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
অভিযোগ প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে।
অনেক শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মনে করছেন,
“একাডেমিক যোগ্যতার পরিবর্তে টাকায় শিক্ষকতা কেনা” হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের নিয়োগ ও একাডেমিক প্রতারণা উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে কলুষিত করছে এবং শিক্ষার্থীদের বিশ্বাস নষ্ট করছে।
সারসংক্ষেপ:
ঢাবির সহকারী অধ্যাপক শেহরিন আমিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ, গবেষণা জালিয়াতি, এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক একাডেমি ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন।
প্রতিবেদন রেফারেন্স : তানজির আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষা আন্দোলন প্রতিনিধি
রেফারেন্স লিংকসমূহ
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
- বাংলাদেশ পাবলিক একাডেমি ফেসবুক পেজ
- বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষা আন্দোলন সংবাদ
