চিকেন নেক এলাকায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর IL-78, Vajra-1 ও পরিবহন স্কোয়াড্রনের সমন্বিত মহড়া কৌশলগত বার্তা দিচ্ছে প্রতিবেশী অঞ্চলকে।
প্রতিবেদন: বিশেষ বিশ্লেষণ | সময়: নভেম্বর ২০২৫
ভারতীয় বিমানবাহিনী (IAF) সম্প্রতি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে কৌশলগত এলাকা “চিকেন নেক”-এর আকাশে এক সমন্বিত বিমান মহড়া পরিচালনা করেছে। এতে অংশ নেয় IL-78 আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, AEW&C Mk1 “Vajra-1” সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ বিমান, এবং দুটি পরিবহন ফরমেশন — “Manas” ও “Segun”, যেখানে রয়েছে An-32, C-295, এবং C-130J বিমান।
মহড়ার উদ্দেশ্য ও বার্তা
“চিকেন নেক” বা সিলিগুড়ি করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা একমাত্র স্থলপথ, যা মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া। এই এলাকা কৌশলগতভাবে এতটাই সংবেদনশীল যে, যেকোনো সামরিক কার্যক্রম বা বাহিনী মোতায়েন প্রতিবেশী দেশগুলোর নজরে আসে।
এই মহড়ায় আকাশ থেকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের অনুশীলন, বিমান সমন্বয়, এবং ইলেকট্রনিক নজরদারি সক্ষমতার পরীক্ষা চালানো হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি চীন ও বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা আকাশে ভারতের দ্রুত প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা প্রদর্শনেরও একটি অংশ।
AEW&C “Vajra-1” এর ভূমিকা
“Vajra-1” বা Airborne Early Warning & Control (AEW&C) Mk1 বিমানটি মহড়ার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এটি শত্রুপক্ষের বিমান গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, রাডার সতর্কতা, এবং কমান্ড নেটওয়ার্ক সমন্বয় করার দায়িত্বে ছিল।
এটি ভারতের Netra প্রোগ্রামের অংশ, যা নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি।
এই বিমানের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, ভারতের নজরদারি ব্যবস্থা এখন আঞ্চলিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় আরও প্রস্তুত।
আঞ্চলিক কৌশলগত বার্তা
চিকেন নেক এলাকা ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ভারত, চীন, বাংলাদেশ, ও ভুটানের সীমান্তসংলগ্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মহড়ার সময় ও অবস্থান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—
ভারত এখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যে কোনো হঠাৎ সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
অন্যদিকে, ভারতের প্রতিবেশীরা এটি আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছে।
