আইআরআই-এর নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো নাজুক, সংস্কার বাস্তবায়নেও ধীরগতি।
ঢাকা | নভেম্বর ২০২৫:
আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)-এর নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো নাজুক ও অনিশ্চিত। ২০২৫ সালের ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সংস্থাটি ঢাকায় একটি নির্বাচনী মূল্যায়ন মিশন পরিচালনা করে। এ মিশনের লক্ষ্য ছিল নির্বাচনী প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, এবং রাজনৈতিক সংস্কার অগ্রগতির সামগ্রিক মূল্যায়ন করা।
জুলাই জাতীয় সনদ ও সংস্কার উদ্যোগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত ১১টি কমিশনের মাধ্যমে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবনা তৈরি করেছে, যা “জুলাই জাতীয় সনদ” নামে পরিচিত।
এই প্রস্তাবনাগুলো দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো, নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা, ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ—সবক্ষেত্রেই সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক মতবিরোধ, প্রক্রিয়াগত অস্পষ্টতা, এবং বাস্তবায়নের ধীরগতি এই সংস্কারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
নির্বাচনী প্রশাসন ও নিরাপত্তা ইস্যু
আইআরআই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে এবং সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় নিরাপত্তা জোরদারের পরিকল্পনা করছে।
তবে প্রাক-নির্বাচনী সহিংসতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আস্থার ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে
তরুণ ও প্রবাসী ভোটারদের ভূমিকা
আইআরআই বলছে, তরুণ ভোটার ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের আগমন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন উদ্যম যোগ করেছে।
তবে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার অভাব, নারী প্রার্থীদের সীমিত অংশগ্রহণ, এবং ধর্মীয় কট্টরপন্থার উত্থান গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করছে।
মূল চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা
আইআরআই-এর মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কারের সফলতা নির্ভর করছে নির্বাচনী প্রশাসনের স্বচ্ছতা,
ও রাজনৈতিক দলের বিশ্বাসযোগ্য অংশগ্রহণ।
রিপোর্টে বলা হয়েছে,
মিশন চলাকালে ২১টি বৈঠকে ৫৯ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন, যেখানে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা মতামত দেন।
