পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যা মামলায় দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘পাতা সোহেল’ ও ‘বুক পোড়া সুজন’কে সাভার ও টঙ্গী থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবে র্যাব।
রাজধানীর পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া হত্যা মামলায় দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব-৪। মঙ্গলবার রাতে সাভার ও টঙ্গীর দুই জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—সোহেল ওরফে পাতা সোহেল ওরফে মনির হোসেন, এবং বুক পোড়া সুজন।
র্যাব-৪ এর মিডিয়া অফিসার মেজর মোহাম্মদ আবরার ফয়সাল সাদী গণমাধ্যমকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার বিকেল ৩টায় কারওয়ান বাজারের র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন র্যাব-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলম।
মিরপুরে ভয়াবহ দিবাগত হত্যাকাণ্ড
গত সোমবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে মিরপুর ১২ নম্বরের বি ব্লকে অবস্থিত ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি’ দোকানে ঢুকে তিনজন হেলমেট ও মুখোশ পরিহিত সন্ত্রাসী যুবদল নেতা কিবরিয়াকে কাছ থেকে গুলি করে।
দোকানের মধ্যে খুব কাছ থেকে গুলি ছোড়া হলে কিবরিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা জনি ভূঁইয়া (২৫) নামে একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়।
হত্যাকাণ্ডের মামলা ও আসামিদের নাম
হত্যার ঘটনায় পরদিন মঙ্গলবার কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার ওরফে দীনা পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়—
- জনি ভূঁইয়া (২৫)
- সোহেল ওরফে পাতা সোহেল ওরফে মনির হোসেন (৩০)
- সোহাগ ওরফে কালু (২৭)
- মাসুম ওরফে ভাগিনা মাসুম (২৮)
- রোকন (৩০)
এ ছাড়া মামলায় উল্লেখ রয়েছে, অজ্ঞাত আরও সাত-আটজন ব্যক্তি এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।
পল্লবী থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে। এদিকে র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতার দুই সন্ত্রাসীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে
এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, পরিকল্পনা, অংশগ্রহণকারী অন্যান্যদের নামসহ সব তথ্য তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে।
সন্ত্রাস নির্মূল ও রাজনৈতিক উত্তাপ
যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যার পর এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি সরাসরি রাজনৈতিক সংঘাত নাকি এলাকা দখল বা চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিরোধ—তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। র্যাব ও পুলিশ বলছে, তদন্তে সবই পরিষ্কার হবে।
