ইউনুস সরকারের নীতিতে বাংলাদেশকে পাকিস্তান মডেলে দুর্বল রাষ্ট্রে রূপান্তরের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জঙ্গি তৎপরতা, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
ড. মুহাম্মদ ইউনুস ক্ষমতা দখলের পর তাঁর সমর্থক মহল দাবি করেছিল—বাংলাদেশকে নাকি “ইউরোপ-আমেরিকার মতো আধুনিক রাষ্ট্রে” রূপান্তর করা হবে। কিন্তু এক বছরের বাস্তবতা উল্টো ইঙ্গিত দিচ্ছে। সবকিছুর ওপরে ভেসে উঠছে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন—ইউনুস সরকার কি বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ব্যর্থ রাষ্ট্র মডেলে ঠেলে দিচ্ছে?

পাকিস্তান মডেল: দারিদ্র্য, জঙ্গিবাদ ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ
বর্তমান পাকিস্তান দুনিয়ার কাছে ব্যর্থ রাষ্ট্রের প্রতীক। দেশটিতে—
- চার কোটি মানুষ ভিক্ষাবৃত্তিতে নির্ভরশীল
- শিল্পকারখানা ভেঙে পড়েছে
- রাজনৈতিক অস্থিরতা স্বাভাবিক নিয়ম
- আর সবচেয়ে ভয়াবহ—জঙ্গি গোষ্ঠীর ঘাঁটি হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবেই কুখ্যাত
রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে সেনাবাহিনী, গণতন্ত্র পুরোপুরি অকার্যকর, জনগণের ভোটাধিকার প্রহসনে পরিণত।
বাংলাদেশেও আজ অনেক বিশেষজ্ঞ দেখছেন ভৌতিক মিল।
ইউনুস সরকারের অধীনে রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ “সামরিক-আমলাতান্ত্রিক জোটের” হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিত্ব উপেক্ষিত, সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের অংশগ্রহণ নেই।
কেন পাকিস্তানের সাথে এত ঘনিষ্ঠতা?
পাকিস্তানের সাথে ইউনুস সরকারের ঘনিষ্ঠতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে—এমন দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
সাম্প্রতিক সময়ে—
- পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের ঘন ঘন ঢাকা সফর
- বাংলাদেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাকিস্তান সফর
- নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে রহস্যজনক বৈঠক
এসবই নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
বিশেষ করে যখন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই আন্তর্জাতিকভাবে জঙ্গি তৎপরতার মূল উৎস হিসেবে পরিচিত।
**মূল প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে—
বাংলাদেশে কি জঙ্গিবাদ আমদানির নতুন দরজা খুলে দেওয়া হচ্ছে?**
জনপ্রশাসন, নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে ব্যর্থতা পাকিস্তানকরণের প্রমাণ?
এক বছরের মধ্যেই ইউনুস সরকারের ব্যর্থতার চিত্র ভয়াবহ—
- ৭০ লাখ মানুষ বেকার
- ৫০ লাখ মানুষ অতিগরিব
- ২৫ লাখ নতুন দরিদ্র
- ১ কোটি মানুষ রিকশা চালাতে বাধ্য
- ভিক্ষাবৃত্তি ভয়াবহভাবে বেড়েছে
- জঙ্গি তৎপরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে
- খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই পাকিস্তানের চেয়েও বেশি হারে বৃদ্ধি
অর্থনীতি ও নিরাপত্তা—দুই ক্ষেত্রেই ভয়াবহ অবনতি দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ব্যর্থতা নয়; বরং ইঙ্গিত দেয় নির্দিষ্ট একটি নীলনকশার, যা পাকিস্তানি মডেলের সাথে অদ্ভুতভাবে মিলে যায়।
১৯৭১-এর দোসরদের পুনরুত্থান?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তিগুলো আজ নতুন মুখোশে সক্রিয় হয়েছে। পাকিস্তানের লক্ষ্য তখন যেমন ছিল—বাংলাদেশকে দুর্বল রাখা—আজও সেই একই ধারা বহন করছে বলে দাবি অনেকের।
ইউনুস সরকারের পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতা সেই আশঙ্কাকেই আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বাংলাদেশের জনগণ ইতিহাস ভুলে যায়নি—
পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, আগ্রাসন, নির্যাতনের স্মৃতি আজও অম্লান।
প্রতিরোধই শেষ ভরসা
বাংলাদেশকে পাকিস্তানিকরণ নয়—
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার পথেই এগিয়ে নেওয়া জরুরি।
জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই পারে এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে।
কারণ আজকের লড়াই শুধু রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক নয়—
এটি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ রক্ষার লড়াই।
Reference Links
- https://www.dawn.com
- https://www.aljazeera.com
- https://www.bbc.com/news/world-asia
- https://www.thedailystar.net
- https://www.dw.com
