মুনতাসির মাহমুদ ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানিয়েছেন। এনসিপির ভেতরকার সংকট তীব্র হচ্ছে।
স্টাফ রিপোর্ট | ইনভেস্টিগেশন ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি পাওয়া কেন্দ্রীয় সংগঠক মুনতাসির মাহমুদ এবার সরাসরি ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার ভোরে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মুনতাসির লেখেন—
“ছাত্র উপদেষ্টারা যাতে কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। দুদক এবং ড. ইউনূস স্যারকে বলছি—অনতিবিলম্বে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করুন।”

উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ‘জুলাই বিক্রির’ অভিযোগ
এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতে লাইভে এসে মুনতাসির বলেন—
➤ “বাংলাদেশে জুলাইকে বিক্রি করে দিয়েছে ছাত্র উপদেষ্টারা।”
➤ “সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছে এই ছাত্র উপদেষ্টারাই।”
লাইভে তিনি আরও অভিযোগ করেন—
- ৫ আগস্টের পর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে ছাত্র উপদেষ্টারা
- তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো সমন্বয়ক বা সংগঠক এমনকি জেলা-উপজেলার নেতারা কারও সঙ্গে দেখা করতে পারতেন না
- প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগেও তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতেন
তার অভিযোগ—
“ডিসি, ওসি বসানো থেকে শুরু করে এসেনশিয়াল ড্রাগসের এমডি, পেট্রোবাংলার এমডি—সবকিছুতেই ছাত্র উপদেষ্টাদের প্রভাব ছিল। শত–শত কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
‘অ্যাবসলিউট পাওয়ার’ হাতে ছিল ছাত্র উপদেষ্টাদের
মুনতাসিরের দাবি অনুযায়ী, ছাত্র উপদেষ্টারা জুলাই আন্দোলন ও জনগণের আস্থা নিয়ে খেলেছে।
তিনি বলেন—
“তারা জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বেঈমানি করেছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এনসিপির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এখন প্রকাশ্যে রূপ নিচ্ছে।
মাহফুজ ও আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ
এনসিপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরদিনই মুনতাসির অভিযুক্ত করেন—
- উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বড় ভাই মাহবুব আলমকে দুর্নীতি চক্র পরিচালনার অভিযোগে
- পরে আখতার হোসেনের বিরুদ্ধেও ‘৫০ লাখ টাকার পিপি নিয়োগ বাণিজ্য’ ঘিরে বিস্ফোরক বিবৃতি দেন
এতে এনসিপির ভেতরকার দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার সংঘাত এবং অর্থনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দাবি—কেন এখন?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের মতে—
- সরকারের ভেতরে দ্রুত বদল ঘটছে
- উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে
- একাধিক উপদেষ্টা ইতোমধ্যে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন আশঙ্কাই এই দাবি উত্থাপন করেছে
মুনতাসিরের ভাষায়—
“ছাত্র উপদেষ্টাদের বিচার না হলে জুলাই আন্দোলনের অপমান ধুয়ে যাবে না।”
শেষকথা
এনসিপির ভেতরে যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও দুর্নীতির বিস্ফোরণ—
মুনতাসির মাহমুদের বক্তব্য সেই আগুনে ঘি ঢেলেছে।
এখন দেখার বিষয়—
➡ ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে সত্যিই তদন্ত শুরু হয় কি না
➡ সরকার বা দুদক কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না
➡ নাকি এই অভিযোগও অন্য বিতর্কের মতো সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে যায়
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই সংঘাত।
