বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, নির্যাতন ও প্রতারণার অভিযোগে আইনজীবী শিশির মনিরের বিরুদ্ধে প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিত অভিযোগ করলেন সাদিয়া আক্তার রাফি।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনিরের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন, প্রতারণা এবং চারিত্রিক স্খলনের গুরুতর অভিযোগ এনে দেশের প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এক তরুণী, নাম সাদিয়া আক্তার রাফি (প্রিয়সী)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বার্তায় তিনি তার ওপর হওয়া নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।
পরিচয় থেকে প্রেম, তারপর ভয়াবহ পরিণতি
লিখিত অভিযোগ ও ভিডিও বার্তা থেকে জানা যায়—
২০১৭ সালে হাইকোর্ট নির্বাচন প্রচারণার সময় শিশির মনিরের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় হয়। পরের বছর ফোনালাপ ও দেখা-সাক্ষাতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগকারী জানান, ২০১৯ সাল থেকে শিশির মনির বিয়ের আশ্বাসে তার সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে তাকে প্রথমবার ধানমন্ডির চেম্বারে ডেকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করা হয় বলে দাবি করেন ওই তরুণী।
পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে শিশির মনির বিবাহিত। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে শিশির জানান, স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয় এবং দ্রুত ডিভোর্স দিয়ে তাকে বিয়ে করবেন। সেই বিশ্বাসে তরুণী কোনো আইনি ব্যবস্থা নেননি।
২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর: মারধর, ধর্ষণ ও চেম্বার থেকে ঘাড় ধাক্কা
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়—
২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ধানমন্ডির চেম্বারে তাকে আবারও জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। বিয়ের চাপ দিলে শিশির মনির ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন এবং তার ক্লার্ক নয়নের মাধ্যমে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে চেম্বার থেকে বের করে দেওয়া হয়।
চারিত্রিক স্খলন ও সমকামিতার অভিযোগ
ভিডিও বার্তায় এই তরুণী শিশির মনিরের বিরুদ্ধে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন—
- শিশির মনিরের তার জুনিয়র জায়েদ এবং ক্লার্ক নয়নের সঙ্গে সমকামিতার সম্পর্ক রয়েছে।
- নয়ের কাছ থেকেই তিনি বিষয়টি জেনেছেন।
- ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিশির মনির তাকে টাকা দিয়ে আপসের প্রস্তাব দিয়েছেন।
কিন্তু ভুক্তভোগী তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন—
“সে আমাকে বলছে টাকা নিয়ে আপস হও। কিন্তু আমি সেটা নিতে চাচ্ছি না।”
আইনি প্রক্রিয়া: কেন এতদিন মামলা হয়নি?
তরুণী জানান—
বিয়ের আশ্বাসে তিনি এতদিন মামলা করেননি। শুধুমাত্র একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। কিন্তু শিশির মনির যখন বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান, তখনই তিনি বিচার চেয়ে প্রধান বিচারপতির দপ্তরে নালিশ দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে শিশির মনিরের পিতা মুকিত মনিরের নামও উল্লেখ করা হয় এবং তাকে যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আইনজীবী মহলে চাঞ্চল্য – বিচার বিভাগের নজরে আসতে পারে মামলা
ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর আইনি মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন—
“সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এটি প্রভাবশালী ব্যক্তি দ্বারা ক্ষমতার অপব্যবহারের ভয়াবহ উদাহরণ।”
বিচার বিভাগ চাইলে বিষয়টি নিজ উদ্যোগেও তদন্তে নিতে পারে, এমন মত দিয়েছেন কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।
রেফারেন্স / উৎস
- ভুক্তভোগীর ভিডিও বিবৃতি (সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত)
- প্রধান বিচারপতির কাছে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগ (প্রতিলিপি)
- আইনজীবী মহলের নিশ্চিতকরণ ও ব্যাখ্যা
