রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ব্যয় ২৬ হাজার ১৮১ কোটি বাড়িয়ে অনুমোদন; মেয়াদ বাড়ল ২০২৮, ফলে প্রকল্প বিলম্ব ও ঋণের চাপ বাড়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক: ব্যয় বৃদ্ধি ও সময়সীমা বাড়ল : নতুন প্রস্তাব
- সম্প্রতি, Rooppur Nuclear Power Plant (রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র) প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ২৬,১৮১ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে।
- এর ফলে, ২০১৬ সালে অনুমোদিত প্রাথমিক বাজেট ১,১৩,০৯২.৯১ কোটি টাকা হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন প্রায় ১,৩৯,২৭৪ কোটি টাকা।
- একইসঙ্গে, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে — অর্থাৎ তারুণ্য অনুযায়ী ২০২৫ বা ২০২৬ সালের সময়সীমা কেটে গেছে।
বিলম্ব ও ঋণের বোঝা
- প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে — ইউনিট-১-এর উৎপাদন শুরুর সময়সীমা এখন অনিশ্চিত। দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন তো পিছিয়ে যাওয়াই আগের পরিকল্পনায় ছিল।
- মেয়াদ বাড়লে, ঋণের সুদ এবং রক্ষণাবেক্ষণ-খরচসহ মোট ব্যয় বাড়বে। প্রকল্পের ঋণ মুলত রাশিয়ার সঙ্গে হয়েছে, এবং পরিশোধ শুরু হবে ২০২৯ সালের কাছাকাছি।
- বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধির ফলে দেশের জন্য “বিদ্যুৎ নিরাপত্তা” সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
ব্যয় বৃদ্ধির কারণ — কি শুধু বিনিময় হার?
- অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মূল কারণ এখনকার “বিনিময় হারের সামঞ্জস্য” দেখিয়েও হয়েছে।
- তবে প্রথম সংশোধিত বাজেটে মাত্র ১১.৮৪ % (১৩,৩৮৬ কোটি টাকা) বাড়ার প্রস্তাব ছিল;
- পরে নতুন হার অনুযায়ী ২৩ % (২৬,১৮১ কোটি) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত।
- এই অবস্থায়, অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে — ১. কেন এত বড় ব্যয়-উঠুনো হয়েছে,
- ২. মৌলিক পরিকল্পনা ও সময় ব্যবস্থাপনায় কোথায় জট সৃষ্টি হয়েছে,
- ৩. এবং কি প্রকল্প পরিচালনায় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধা প্রকৃত সময় ও ব্যয়ে প্রভাব ফেলেছে।
সমালোচনা ও প্রশ্ন — প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা প্রয়োজন
- যদিও সংবাদমাধ্যম “বিনিময় হার” বৃদ্ধি কারণ হিসেবে দিয়েছে, তবে কিছু বিশ্লেষক এবং সচেতন নাগরিক মন্তব্য করছেন
- যে — প্রকল্প পরিচালনায় “অস্পষ্টতা, সিদ্ধান্ত-হীনতা, বিলম্ব এবং ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা” এখানে বড় ভূমিকা রাখছে।
- এই ধরনের দিক নির্দেশিত হলেও, এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি অডিট রিপোর্ট বা পরিষ্কার দায়বদ্ধতা নির্দেশিকা hasn’t been published that publicly verifies that “প্রধান দায়িত্ব” কার — এবং কোন সিদ্ধান্ত-বিরোধ বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রকল্পকে স্তব্ধ বা দেরিতে করেছে।
কেন জরুরি এখন খোলামেলা তদন্ত ও তথ্যপ্রকাশ
- সরকারি অর্থ ও ঋণ → জনগণের দায়িত্ব
বড় বাজেট ও বিদেশি ঋণের মেয়াদ ও সুদ — শেষ পর্যন্ত জনসাধারণকেই দিতে হবে। এমন ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে সঠিক কারণ জানা উচিত। - ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিশ্বাসযোগ্যতা
যদি প্রকল্প সময়মতো ও বাজেট অনুযায়ী শেষ না হয়, ভবিষ্যতে অন্য মেগা প্রকল্পেও মানুষের আস্থা কমবে। - স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে
প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক ভুল হলে বিষয়টি খোলামেলা হওয়া দরকার — যাতে ভবিষ্যতে একই সমস্যা না হয়।
অর্থাৎ — “ইউনূসের অদক্ষতায়” ব্যয় বেড়েছে — কি বলা যায়?
বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী — প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির অফিসিয়াল কারণ বিনিময় হার পরিবর্তন এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়া।
“প্রশাসনিক অদক্ষতা” বা “রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতা” — যদিও অনেকে উল্লেখ করছেন, কিন্তু সর্বজনীন, যাচাই-যোগ্য প্রমাণ হিসেবে সংবাদে তা নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি।
