পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে ৭০৩ পণ্যের এক লটে টেন্ডার আহ্বান। পিপিআর লঙ্ঘন ও ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দরপত্র বাতিল করেছে।
অনিয়মের অভিযোগে ৭৬ কোটি টাকার ক্রয়প্রক্রিয়া স্থগিত। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় বড় ধরনের অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার জন্য আহ্বান করা দরপত্রে অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, এক্স-রে ইউনিট থেকে শুরু করে ঘড়ি–টেলিভিশনের মতো অপ্রাসঙ্গিক সামগ্রীসহ মোট ৭০৩ ধরনের পণ্য—সবকিছু এক লটে রাখা হয়। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন, এভাবে এক লটে পণ্য ঠেসে দেওয়া পিপিআর ২০২৫ বিধিমালার লঙ্ঘন এবং এটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।
অভিযোগ ও তদন্ত গত ২ নভেম্বর কয়েকটি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়—
- নিম্নমানের স্পেসিফিকেশন,
- নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড/মডেল উল্লেখ,
- মাত্র দুই বছরের ওয়ারেন্টি,
- উৎপাদকের অনুমোদনের বদলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গ্রহণযোগ্য করা—
এসবই পিপিআর বিধিমালার পরিপন্থী বলে দাবি করেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া ৭০৩ আইটেম একত্রে লটে রাখায় দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানই এককভাবে সরবরাহ করতে পারবে না, ফলে প্রকৃত প্রতিযোগিতা ব্যাহত হবে এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি বাড়বে।
অভিযোগের পর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন।
দ্রুত তদন্ত শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২৬ নভেম্বর দরপত্রটি বাতিল করে।
অধিদপ্তরের চিঠিতে জানানো হয়, “অপরিহার্য কারণবশত” পুরো প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে এবং নতুন করে দরপত্র আহ্বান ছাড়া কেনাকাটা এগোনো যাবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের সহকারী প্রকৌশলী মাইনুর শুভ বলেন, “এক লটে ৭০৩ ধরনের পণ্য কেনার সুযোগ নেই।
” তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে দরপত্র বাতিল করেছে এবং নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, এ ধরনের প্যাকেজিং উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়, এবং ভবিষ্যতে নিরীক্ষা আপত্তি, তদন্ত বা দুর্নীতি মামলার ঝুঁকি তৈরি করে।
আগের টেন্ডার নিয়েও প্রশ্ন
এর আগেও পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের ব্লাড ব্যাংক ল্যাবরেটরি প্রতিস্থাপন প্রকল্পে ৯৬ কোটি টাকার ৯টি দরপত্র
একই প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার পর নিম্নমানের পণ্যে বিদেশি ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগানোর অভিযোগ ওঠে।
সে ক্ষেত্রেও অনেক পণ্য গ্রহণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনীহা প্রকাশ করে।
দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান বলেন, “দরপত্রের কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রকল্প পরিচালক ডা. এস এম কবির হোসেন নির্দেশনা পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও কারসাজি বা পিপিআর লঙ্ঘন বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।
