মার্কিন কংগ্রেসের ৪৪ সদস্য পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনীরের বিরুদ্ধে ট্রান্সন্যাশনাল রিপ্রেশন অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানালেন।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনীরের বিরুদ্ধে “ট্রান্সন্যাশনাল রিপ্রেশন” পরিচালনার অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ৪৪ জন সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—চিঠিটি ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতারা একসঙ্গে স্বাক্ষর করেছেন।
চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, জেনারেল মুনীর বিদেশে বসবাসরত পাকিস্তানি সমালোচকদের ভয় দেখাতে, নিপীড়ন করতে এবং দমন করতে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করছেন।


গুরুতর অভিযোগ: অপহরণ, হুমকি ও হত্যার নির্দেশ
চিঠিতে তিনটি প্রধান অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে—
১️। সাংবাদিক আহমেদ নূরানির পরিবারের উপর হামলা- যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনুসন্ধানী সাংবাদিক আহমেদ নূরানির ঘনিষ্ঠদের পাকিস্তানে অপহরণ, ভয়ভীতি ও নিপীড়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২️। সংগীতশিল্পী সালমান আহমদকে হত্যার হুমকি- বিশ্বখ্যাত পাকিস্তানি রক ব্যান্ড জুনুন-এর সদস্য সালমান আহমদ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
৩️। সরাসরি সেনাপ্রধানের নির্দেশ
অভিযোগগুলো সমর্থন করেছে দুই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম—
- ফ্রিডম হাউস
- ড্রপ সাইট নিউজ
দুই তদন্তেই পাওয়া গেছে, এসব অপারেশনের পেছনে “সরাসরি জেনারেল আসিম মুনীরের নির্দেশ” ছিল।
মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের দাবিগুলো
চিঠিতে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের প্রতি কয়েকটি কঠোর দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে—
গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি স্যাংশন
সেনাপ্রধান মুনীরসহ জড়িত পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ।
ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দ
যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সম্পদ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ভ্রমণ সুবিধা বাতিলের দাবি।
ইমরান খানের মুক্তি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানসহ সকল “রাজবন্দী”কে মুক্তির আহ্বান।
সামরিক আদালতে বেসামরিক বিচার বন্ধ
কংগ্রেস সদস্যরা বলেন— “পাকিস্তানের সামরিক আদালতে বেসামরিক মানুষের বিচার গণতন্ত্রের পরিপন্থী।”
নির্বাচন-পরবর্তী সংকটের প্রেক্ষাপট
এই চিঠি এসেছে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই।
২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে—
- ভোট কারচুপি
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন
- বেলুচ আন্দোলনের দমন
- মিডিয়ার উপর সেনা নিয়ন্ত্রণ
এসব বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পাকিস্তানি নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া: মিশ্র সুর
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X/Twitter)-এ পাকিস্তানি ব্যবহারকারীদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে—
- পিটিআই সমর্থকরা এটিকে তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের “আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি” হিসেবে দেখছেন।
- অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন—যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ যতক্ষণ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে প্রয়োজন, ততক্ষণ এই চিঠির তেমন বাস্তব প্রভাব পড়বে না।
২০২৫ সালের রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যদের এই অভূতপূর্ব যৌথ চিঠি পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও জটিল করেছে।
কারণ—সেনাবাহিনী ও বেসামরিক রাজনীতির দ্বন্দ্ব, আন্তর্জাতিক চাপ, অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সব মিলিয়ে দেশটি ২০২৫ সালের শেষ দিকে নতুন এক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।
