ব্রিগেডিয়ার আযমী আয়নাঘরে ছিলেন না—ট্রাইব্যুনালে জানালেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। তিন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়মুক্তির আবেদনও করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ আজ (মঙ্গলবার) এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী—জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে—কথিত আয়নাঘরে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গুম, বেআইনি আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার তিন সেনা কর্মকর্তার পক্ষে শুনানিতে তিনি জানান—আযমীকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল তা আয়নাঘরের আদর্শ বর্ণনার সঙ্গে মেলে না।
ব্রিগেডিয়ার আযমীর রুম ছিল কেমন—দুলুর দাবি
দুলু ট্রাইব্যুনালে বলেন—
- কক্ষের আকার ছিল ২১×১৭ ফুট
- দুটি দরজা
- পাঁচটি জানালা (বন্ধ অবস্থায়)
- একটি খাট, একটি টেবিল
- ওয়্যারড্রব ও আলমারি
- এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—একটি এসি
আইনজীবীর বক্তব্য—এই ধরনের রুম কোনোভাবেই ber notorious আয়নাঘরের সঙ্গে মিল না। তাই আযমীকে কোথায় রাখা হয়েছিল, তা নতুন করে বিবেচনা করা জরুরি।
তিন সেনা কর্মকর্তার পক্ষে দায়মুক্তির আবেদন
এ মামলায় গ্রেপ্তার তিন কর্মকর্তা হলেন—
১) মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন
২) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী
৩) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী
দুলুর দাবি—
- ভুক্তভোগী আযমী ও মাইকেল চাকমাকে অপহরণ ও গুমে রাখার সময় এই তিনজন কেউই ডিজিএফআইয়ে কর্মরত ছিলেন না।
- সেনাবাহিনীর কোর্ট-অফ-ইনকোয়ারি রিপোর্টেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো দায় পাওয়া যায়নি।
- তাই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত।
আযমী ‘ঘুম’ ছিলেন না—বিতর্ক নতুন দিকে
সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ছিল—ব্রিগেডিয়ার আযমী আসলে গুম ছিলেন না, বরং DGFI–এর সম্পূর্ণ সুরক্ষায় ছিলেন।
অনেকে অভিযোগ তুলেছিলেন, অতীতে বিএনপি-জামায়াত আমলে তিনি DGFI এজেন্ট হিসেবে নির্যাতন ও জুলুমে অংশ নিয়েছিলেন।
বাস্তবতার তুলনা টেনে অনেকে বলেন—
- ইলিয়াস আলী ফেরত আসেননি
- সুমন, হিরুর মতো নিখোঁজরা আর ফিরেননি
- হুম্মাম কাদের ফিরে এসেও মামলার ভার নিয়ে জীবন চালিয়েছেন
- সালাউদ্দিন আহমেদ ফেরত আসতেই মামলায় জর্জরিত হয়েছেন
কিন্তু ব্রিগেডিয়ার আযমী ফিরে এসেছেন—আরও মোটাতাজা হয়ে, নতুন গামছা গায়ে, কোনো মামলার বোঝা ছাড়াই।

বিতর্ক: আযমীকে আবার গ্রেপ্তারের দাবি
জনমত ও বিশ্লেষকদের একটি অংশ বলছে—
যদি অতীতের ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’, নির্যাতন ও গুমের রহস্য উদ্ঘাটন করতে হয়, তাহলে জিউল হকের সঙ্গে ব্রিগেডিয়ার আযমীকেও গ্রেপ্তার করতে হবে।
কারণ, বিভিন্ন গুম-নির্যাতনের ঘটনার পেছনে যেসব সেনা-গোয়েন্দা কর্মকর্তার নাম আসে—আযমীর নামও সেখানে ঘোরাফেরা করে।
অতএব, রাষ্ট্রীয় সত্য উদ্ঘাটনের জন্য তাঁর গ্রেপ্তার জরুরি বলে মনে করছেন অনেকে।
সার-কথা
ব্রিগেডিয়ার আমান আযমীকে আয়নাঘরে রাখা হয়নি—আইনজীবী দুলুর এই দাবি মামলাটিকে নতুন বিতর্কের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
একদিকে সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়মুক্তির আবেদন, অন্যদিকে আযমীর অতীত ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে এই মামলার রায় বাংলাদেশের মানবাধিকার–রাজনীতির ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
