কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রিমান্ডের সময় অসুস্থ হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াসিকুর রহমান বাবুর মৃত্যু হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে হৃদরোগে মৃত্যু।
রিমান্ডে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আকস্মিক মৃত্যু
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রিমান্ডে সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মারা যান।
নিহত ব্যক্তির নাম ওয়াসিকুর রহমান বাবু (৪৩)। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার উত্তর বাঁশবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং এনায়েতুর রহমানের ছেলে।
কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সুপার আল মামুন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,
“রোববার বিকেলে রিমান্ডে হস্তান্তরের সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনার সময় কারাগারের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছিল।
কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত
কারা সূত্র জানায়, আদালতের নির্দেশে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে পুলিশের একটি দল ওয়াসিকুর রহমান বাবুকে হেফাজতে নিতে কারাগারে আসে।
এই সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে চেয়ার থেকে ঢলে পড়েন। কারা কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজনৈতিক পরিচয় ও মামলার বিবরণ
ওয়াসিকুর রহমান বাবু রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাড্ডা থানা শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন।
পাশাপাশি তিনি বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কারা সূত্র অনুযায়ী,
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় একটি ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ স্থানান্তর করা হয়। ওই মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্ত
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর ঘটনায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।
ময়নাতদন্তসহ পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ও সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
