লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে অস্ত্রসহ ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা আতিক হাসান আটক। নাশকতার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত এলাকায় নাশকতার আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর গুপ্ত সংগঠন ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে অস্ত্রসহ আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সক্রিয় উগ্রবাদী তৎপরতার প্রেক্ষাপটে এই অভিযানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
ভোরের অভিযানে আটক আতিক হাসান
আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোরে পাটগ্রাম উপজেলার তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)-এর অধীন পঁয়ষট্টিবাড়ি বিওপি এলাকার একটি টহল দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। ঘটনাস্থলটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হলেও আন্তর্জাতিক সীমান্তের অতি কাছাকাছি হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
আটক ব্যক্তির নাম আতিক হাসান (২৫)। তিনি পাটগ্রাম থানা পশ্চিম শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং সীমান্তপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম বজলার রহমান।
অস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধার
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মেইন পিলার ৮৪৬-এর নিকটবর্তী আউলিয়ার হাট এলাকায় সন্দেহজনকভাবে কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছিল। বিজিবির টহল দল এগিয়ে গেলে আতিক হাসানকে আটক করা সম্ভব হলেও তার সঙ্গে থাকা আরও দুজন ব্যক্তি পালিয়ে যায়।
আটক আতিকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে—
- ২ ফুট ৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি দেশীয় ধারালো ছুরি
- একটি মোটরসাইকেল
বিজিবি ধারণা করছে, তারা সীমান্ত এলাকায় কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যেই জড়ো হয়েছিলেন।
পালিয়ে যাওয়া দুইজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা
অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তির নাম—
- মো. জুলফিকার আলী (৩৫)
- মো. রহিদুল (৪২)
তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও অবস্থান শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংগঠনের পরিচয় স্বীকার, দায় এড়ানোর চেষ্টা
পাটগ্রাম পূর্ব থানা শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আলমগীর খোরশেদ আতিক হাসানকে সংগঠনের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচিতি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, আতিকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আতিকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। যদিও স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকায় শিবিরের গোপন সাংগঠনিক তৎপরতা নতুন কিছু নয়।
থানায় মামলা, আদালতে সোপর্দ
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক অস্ত্রসহ আতিক হাসানকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিজিবির দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো এখনো উগ্রবাদী ও নাশকতামূলক তৎপরতার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের গ্রেপ্তার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য সতর্কবার্তা।
শেষ কথা
পাটগ্রাম সীমান্তে অস্ত্রসহ শিবির নেতাকে আটক করার ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন গ্রেপ্তার নয়;
বরং এটি সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় গোপন সংগঠন ও সম্ভাব্য নাশকতার ইঙ্গিত বহন করে।
নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপই পারে এই ধরনের হুমকি মোকাবিলা করতে।
