২০১০ সাল থেকে ১ জানুয়ারির বই উৎসব ছিল রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার। ২০২৬ সালে মাস পেরিয়েও বই নেই—দখলদার শাসনে শিক্ষা আজ অবহেলিত।
রিপোর্ট: বই উৎসব ধ্বংস—শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ভাঙার রাজনীতি
বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের কাছে বছরের প্রথম দিন মানেই ছিল আনন্দ, উৎসব আর নতুন স্বপ্নের সূচনা। ১ জানুয়ারি মানেই নতুন বই, নতুন খাতা, নতুন আশা। শেখ হাসিনা সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কেবল একটি কর্মসূচি ছিল না—এটি ছিল রাষ্ট্রের সক্ষমতা, পরিকল্পনা ও শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক।
কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই ঐতিহাসিক বই উৎসব আজ ধ্বংসস্তূপে। বছরের প্রথম দিন তো দূরের কথা, মাসের পর মাস পার হলেও শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে পারেনি বর্তমান দখলদার প্রশাসন। শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে, ক্লাস চলছে—কিন্তু বই নেই। এটি নিছক ব্যর্থতা নয়, এটি একটি নির্মম রাজনৈতিক অবহেলা।
যে রাষ্ট্র একদিন বই দিয়ে উদাহরণ ছিল, আজ সেখানে শূন্যতা
একসময় বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের বিরল উদাহরণ—যেখানে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে একই দিনে বই তুলে দেওয়া হতো। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলেও এই উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছিল।
কিন্তু আজ সেই রাষ্ট্রে—
- শিক্ষার্থীরা বই ছাড়া ক্লাসে বসছে
- শিক্ষকরা ফটোকপি ও নোটে পাঠদান করছেন
- অভিভাবকরা দিশেহারা
- শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ
এই দৃশ্য শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নয়, এটি একটি প্রজন্মকে পিছনে ঠেলে দেওয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
দখলদার শাসনে শিক্ষা এখন অগ্রাধিকার নয়
বর্তমান সরকার বছরের শুরুতেই প্রমাণ করেছে—শিক্ষা তাদের অগ্রাধিকার নয়। যেখানে পরিকল্পনা, বাজেট ও প্রশাসনিক সক্ষমতা থাকলে বই ছাপানো ও বিতরণ কোনো জটিল বিষয় নয়, সেখানে মাসের পর মাস বই না পৌঁছানো স্পষ্ট করে দেয় চরম অদক্ষতা ও উদাসীনতা।
প্রশ্ন উঠছে—
- বই ছাপার দায়িত্ব কার?
- বিতরণে দেরির দায় কে নেবে?
- শিক্ষার্থীদের ক্ষতির জবাব কে দেবে?
দুঃখজনকভাবে এসব প্রশ্নের কোনো জবাব নেই। আছে শুধু নীরবতা।
শিক্ষার্থীর ক্ষতি মানে জাতির ক্ষতি
বছরের শুরুতে বই না পাওয়া মানে শুধু কয়েক মাসের ক্ষতি নয়। এর প্রভাব পড়ে—
- পরীক্ষার প্রস্তুতিতে
- পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করতে
- শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাসে
বিশেষ করে গ্রাম ও প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যারা সরকারি বইয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এটি কার্যত শিক্ষার পথ বন্ধ করে দেওয়ার শামিল।
বই উৎসব ভেঙে দিয়ে কোন বার্তা দেওয়া হলো?
বই উৎসব ছিল রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি বার্তা—“শিক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার।”
২০২৬ সালে বই না দিয়ে আরেকটি বার্তা দেওয়া হলো—
“তোমাদের ভবিষ্যৎ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
এটি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি একটি রাজনৈতিক অবস্থান। ইতিহাস সাক্ষী থাকবে—যে শাসন শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো বই দিতে ব্যর্থ হয়, সে শাসন ভবিষ্যৎ গড়তে পারে না।
ইতিহাস ক্ষমা করে না
বই উৎসব ধ্বংস মানে শুধু একটি উৎসব হারানো নয়—এটি একটি প্রজন্মের স্বপ্নে আঘাত।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে যে শিশু ১ জানুয়ারি বই হাতে পেয়েছিল, আজ সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়েছে।
ইতিহাস ক্ষমা করে না।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দায় একদিন রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।
