টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে চোখ হারানো ঘটনার মামলায় যুবলীগ নেতা আলী হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মির্জাপুরে যুবলীগ নেতা আলী হোসেন গ্রেপ্তার
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত একটি গুরুতর ঘটনার মামলায় যুবলীগ নেতা আলী হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাতে মির্জাপুর থানা পুলিশ তাকে আটক করে। তিনি উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতার পরিচয়
গ্রেপ্তার আলী হোসেন ভাতগ্রাম ইউনিয়নের দুল্যা বেগম গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগঠনের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আন্দোলনের সময় গুলিতে চোখ হারানোর ঘটনা
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন সোহাগপাড়া এলাকায় গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলছিল। ওই সময় পুলিশের ছররা গুলিতে গুরুতর আহত হন গোড়াই ইউনিয়নের লালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা হিমেল।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছররা গুলির আঘাতে হিমেলের দুই চোখই স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাটি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
আদালতে মামলা ও আসামির সংখ্যা
এ ঘটনার পর হিমেলের মা নাছিমা বেগম টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জাপুর আমলি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় পুলিশ সদস্য, কয়েকজন সাংবাদিক এবং আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ মোট ১০০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আলী হোসেন ওই মামলার অজ্ঞাত আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশি বক্তব্য
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার রাতে আলী হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে তাকে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের অগ্রগতি
স্থানীয়দের মতে, এই গ্রেপ্তার ঘটনাটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত সহিংসতার বিচারপ্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
মানবাধিকারকর্মীরাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে,
মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
