দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন নাহিদ ইসলাম।
কাইয়ুমের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে নাহিদের রিট
নিজস্ব প্রতিবেদক | অনলাইন ডেস্ক
দ্বৈত নাগরিকত্ব ও মনোনয়নপত্রে তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটটি করেছেন একই আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
সোমবার (২ জানুয়ারি) নাহিদ ইসলাম এ রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটে ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিত এবং বিষয়টি আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
কী অভিযোগ আনা হয়েছে রিটে
রিট আবেদনে বলা হয়, ড. এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগ রয়েছে, যা সংবিধান ও নির্বাচন আইন অনুযায়ী একজন সংসদ প্রার্থীর জন্য অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত।
এছাড়া মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তিনি নাগরিকত্ব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
রিটে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই না করেই তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে, যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
আইনজীবীদের বক্তব্য
নাহিদ ইসলামের পক্ষে রিটটি পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা ও অ্যাডভোকেট আলী আজগর শরীফী।
অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা বলেন,
“সংবিধান ও জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। এ বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ জরুরি।”
তিনি আরও জানান, চলতি সপ্তাহেই হাইকোর্টে রিটটির ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের আগের সিদ্ধান্ত
এর আগে ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম—
উভয়ের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সেই সিদ্ধান্তের পরই নাহিদ ইসলাম আদালতের দ্বারস্থ হন।
তার দাবি, প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় এখন বিচার বিভাগই একমাত্র ভরসা
রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
রিট দায়েরের ঘটনায় ঢাকা-১১ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে,
আদালতের সিদ্ধান্ত এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আদালত প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাহলে এটি শুধু একটি আসন নয়—বরং জাতীয় রাজনীতিতেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
সামনে কী হতে পারে
হাইকোর্টের শুনানির পর রিটটি গ্রহণযোগ্য হলে নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা তলব,
কিংবা প্রার্থিতা সাময়িক স্থগিতের আদেশ আসতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপরই নির্ভর করছে।
নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই এই রিটের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
