ঝালকাঠির জনসভায় চরমোনাই পীর বলেন, জামায়াতকে ইসলামী দল বললে বোকার স্বর্গে বাস করতে হয়। নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক।
ঝালকাঠির জনসভায় তীব্র রাজনৈতিক বক্তব্য
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম জামায়াতে ইসলামীকে ইসলামী দল হিসেবে পরিচয় দেওয়ার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “জামায়াতকে যারা ইসলামী দল বলে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করে।”
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর এই বক্তব্য ইতিমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ইশতেহার প্রসঙ্গে চরমোনাই পীরের অবস্থান
চরমোনাই পীর বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, শরিয়তকে প্রাধান্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন,
“আমরা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছি। জামায়াতসহ অন্য দলও ইশতেহার দিয়েছে। কিন্তু জামায়াত তাদের ইশতেহারের কোথাও ইসলামের কথা বলেনি।”
তার মতে, ইসলামী দল হওয়ার মূল মানদণ্ড হওয়া উচিত ইসলামী শাসনব্যবস্থা ও শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার স্পষ্ট অঙ্গীকার, যা জামায়াতের ইশতেহারে অনুপস্থিত।
গণ-অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রসঙ্গ
সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন,
ওই সময় ইসলামের পক্ষে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তিনি বলেন,
“অনেক ইসলামী দল প্রথম দিকে আমাদের সঙ্গে সমঝোতায় ছিল। কিন্তু পথে জামায়াত ঢুকে পড়ে, এরপর আরও কিছু দল আসে।”
চরমোনাই পীর অভিযোগ করেন, যখন সারা দেশের মানুষ ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে শুরু করে,
তখন ইসলামপ্রেমিক বা দেশপ্রেমিকদের জায়গায় ক্ষমতাপ্রেমিকরা রাজনীতিতে ‘ছোবল’ দেয়।
দুর্নীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার সমালোচনা
চরমোনাই পীর দেশের দীর্ঘদিনের শাসকদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন,
“গত ৫৪ বছরে যারা দেশ পরিচালনা করেছে, তাদের সময়েই বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এবং এর ফলেই বিদেশে গড়ে উঠেছে কুখ্যাত ‘বেগমপাড়া’।
তার মতে, প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর শাসনব্যবস্থাই এই দুর্নীতির সংস্কৃতি তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
চরমোনাই পীরের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামী রাজনীতির ভেতরকার বিভাজন আরও স্পষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিশেষ করে নির্বাচনের প্রাক্কালে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যকার আদর্শিক পার্থক্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ইসলামী ভোটব্যাংকে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ইসলামী দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ঝালকাঠির জনসভায় দেওয়া চরমোনাই পীরের বক্তব্য শুধু একটি দলকে লক্ষ্য করেই নয়, বরং ইসলামী রাজনীতির সংজ্ঞা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়েও নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। নির্বাচনের আগে এ ধরনের বক্তব্য ভোটের মাঠে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
