নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে আটটি জনসভা শেষে শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
প্রচারণার শেষ দিনে আবেগঘন মুহূর্ত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণার শেষ দিনে আবেগঘন কর্মসূচিতে অংশ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীতে দিনভর একাধিক নির্বাচনী জনসভা শেষে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে তিনি বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন।
রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে পৌঁছান। সেখানে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন, ফাতেহা পাঠ করেন এবং দীর্ঘক্ষণ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
জিয়া উদ্যানে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ
কবর জিয়ারতের সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তারেক রহমান নীরবে দাঁড়িয়ে বাবা-মায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে এই কর্মসূচি ছিল তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত।
বিএনপির একাধিক নেতা জানান, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে অবদান রেখে গেছেন, সেই আদর্শকে সামনে রেখেই তারেক রহমান দেশ ও দলের জন্য কাজ করে যেতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দিনভর আটটি জনসভায় বক্তব্য
সোমবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আটটি নির্বাচনী আসনে জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকা
ঢাকা-১৭ (বনানী) ছাড়াও ঢাকা-১০ (কলাবাগান), ঢাকা-৮ (পীরজঙ্গী মাজার), ঢাকা-৯ (মান্ডা), ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী), ঢাকা-৪ (জুরাইন), ঢাকা-৬ (ধূপখোলা) এবং ঢাকা-৭ (লালবাগ) আসনের জনসভায় অংশ নেন।
প্রতিটি জনসভায় তিনি দলের নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সক্রিয় সমর্থন কামনা করেন।
জাতির উদ্দেশে বিশেষ ভাষণ
এদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে জাতির উদ্দেশে বিশেষ নির্বাচনী ভাষণ দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে জনগণের মালিকানা ফিরে পাওয়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভাষণে তিনি সবাইকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং ক্ষমতায় গেলে পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার
ভাষণে বিএনপি চেয়ারপারসন আরও জানান, বেকার গ্র্যাজুয়েটদের জন্য বিশেষ ভাতা চালু, প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার কার্ড’ প্রবর্তন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে
আপসহীন অবস্থান এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ বাক্যটি পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকারও করেন।
ভাষণের শেষাংশে অতীতে দলের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি বলেন,
ভুল সংশোধনের মাধ্যমে দল-মত নির্বিশেষে একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই বিএনপির লক্ষ্য।
