ত্রয়োদশ নির্বাচনে ২১.৪ শতাংশ জাল ভোট ও ৪৬.৪ শতাংশ ভোটারকে বাধা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে টিআইবি। নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ এক নজরে দেখে নিন।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা: সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির দাবি, এই নির্বাচনে ৪৬.৪ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ২১.৪ শতাংশ ক্ষেত্রে জাল ভোট পড়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে টিআইবি তাদের ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
ভোটের দিনের অনিয়ম: পরিসংখ্যানে ভয়াবহ চিত্র
টিআইবি তাদের প্রতিবেদনে নির্বাচনের দিনের বিভিন্ন অনিয়মকে শতাংশের হারে বিশ্লেষণ করেছে। তাদের তথ্যমতে, দেশের অন্তত ৭০টি নির্বাচনী এলাকা দৈবচয়ন পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এই চিত্র উঠে এসেছে।
- ভোটারদের বাধা ও জবরদস্তি: টিআইবি জানায়, ৪৬.৪ শতাংশ কেন্দ্রে ভোটারদের সরাসরি বাধা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ৩৫.৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটারদের নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
- জাল ভোট ও ব্যালট জালিয়াতি: ২১.৪ শতাংশ কেন্দ্রে জাল ভোট পড়ার তথ্য মিলেছে। এছাড়া ভোট গ্রহণের আগেই ব্যালটে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে ১৪.৩ শতাংশ কেন্দ্রে।
- এজেন্টদের প্রবেশে বাধা: প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়ার হার ছিল ১৪.৩ শতাংশ।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা
প্রতিবেদনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। টিআইবি-র তথ্যমতে, ২১.৪ শতাংশ ক্ষেত্রে বিধি লঙ্ঘন বা অনিয়ম প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া ১০.৭ শতাংশ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটারদের অসহযোগিতা করেছে এবং একই পরিমাণ ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসারসহ কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রমাণ মিলেছে
সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ওপর কড়াকড়ি
নির্বাচনের তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে ৭.১ শতাংশ ক্ষেত্রে। টিআইবি-র মতে, তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে ফোর-জি ও থ্রি-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করা এবং সাংবাদিকদের যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়ার হার ছিল ৭.১ শতাংশ। এছাড়া ৩.৬ শতাংশ ক্ষেত্রে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে।
| অনিয়মের ধরণ | হার (শতাংশ) |
| ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা | ৪৬.৪% |
| নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা | ৩৫.৭% |
| জাল ভোট প্রদান | ২১.৪% |
| ব্যালটে আগে সিল মারা | ১৪.৩% |
| বুথ দখল | ১৪.৩% |
| সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা | ৭.১% |
সহিংসতা ও অভিযোগ
টিআইবি আরও জানায়, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে অন্তত ১২৫টি। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা এবং সম্পদ বিনষ্টের অভিযোগ রয়েছে।
সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যেকোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা জরুরি।
উপসংহার
টিআইবি-র এই প্রতিবেদনটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিশেষ করে ২১.৪ শতাংশ জাল ভোট ও ব্যাপকহারে ভোটারদের বাধার তথ্যটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবির সাথে সাংঘর্ষিক।
সরকার ও নির্বাচন কমিশন এই প্রতিবেদনকে কীভাবে মূল্যায়ন করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
