সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মামুন খালেদকে আওয়ামী লীগের দোসর ও দুষ্কৃতকারী আখ্যা দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন।
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর’ ও ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, তাঁদের অতীতের নানা কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।
রোববার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সামনে এসব মন্তব্য করেন চিফ প্রসিকিউটর। এ সময় তিনি জানান, পৃথক দুটি মামলায় এই দুই সাবেক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে
এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল আগামী ৭ এপ্রিল এই দুই আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা অন্য মামলায় পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “এই দুই ব্যক্তি এক-এগারো এবং পরবর্তী সময়ে দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসন বিনষ্ট করার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে
জড়িত ছিলেন। আয়নাঘরসহ নানা অপকর্ম, খুন ও গুমের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।” তিনি আরও বলেন,
তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো তদন্ত সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।
তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের
সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা হবে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এই ধরনের দুষ্কৃতকারীদের যথাযথ শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
এতে ভবিষ্যতে সরকারি দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তি মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়াতে সাহস পাবে না।”
উল্লেখ্য, এক-এগারোর অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে পরিচিত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গত সোমবার রাতে রাজধানীর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে
গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন পল্টন থানায় দায়ের করা একটি মানব পাচার মামলায় আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মানব পাচার মামলার পাশাপাশি এক-এগারোর সময়কার ভূমিকা নিয়েও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
