আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়াল এনবিআর, তবে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে জরিমানা নিচ্ছে সিটি করপোরেশন—উঠছে প্রশ্ন।
করদাতাদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আরও এক মাস বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমা ১৫ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। সোমবার জারি করা এক আদেশে এনবিআর জানায়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩৩৪-এর দফা (খ) অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে যেসব করদাতার অর্থবছর ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে শেষ হয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত এক মাস সময় পাবেন।
কারা এই সুবিধা পাচ্ছেন?
এনবিআরের ঘোষণায় বলা হয়েছে, স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (HUF) ব্যতীত অন্যান্য সব করদাতার জন্য এই সময় বৃদ্ধি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ কোম্পানি, ফার্ম ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য এই সুবিধা কার্যকর।
এই সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক করদাতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এলেও, অন্য একটি বিষয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ট্রেড লাইসেন্সে সময় না বাড়ানোয় ক্ষোভ
যেখানে আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ানো হয়েছে, সেখানে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা বাড়ানো হয়নি। বরং নির্ধারিত সময় পার হলেই সিটি করপোরেশন জরিমানা আদায় করছে।
এ নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে প্রশ্ন উঠেছে—একদিকে সরকার করদাতাদের সময় দিচ্ছে, অন্যদিকে একই ব্যবসায়ীদের ওপর সিটি করপোরেশন জরিমানার চাপ সৃষ্টি করছে কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বৈত নীতির কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং সংকটের কারণে তারা এমনিতেই চাপে রয়েছেন।
এর মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে অতিরিক্ত জরিমানা তাদের জন্য নতুন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাদের দাবি, আয়কর রিটার্নের মতো ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সময়সীমাও বাড়ানো উচিত, যাতে ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পান।
প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব?
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি মূলত প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবের ফল। একদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সময় বাড়ালেও, সিটি করপোরেশনগুলো একই ধরনের ছাড় না দেওয়ায় নীতিগত অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে।
তারা মনে করছেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
আইনগত ভিত্তি
এনবিআরের আদেশ অনুযায়ী, আয়কর আইন, ২০২৩-এর আওতায় করদাতাদের সুবিধার্থে সময় বাড়ানো হয়েছে।
তবে ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়টি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অধীন হওয়ায় আলাদা নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
ফলে দুই খাতের সিদ্ধান্ত একসঙ্গে না আসায় এই ধরনের বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।
আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানো করদাতাদের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও, ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে জরিমানার বিষয়টি ব্যবসায়ীদের মধ্যে
অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। সমন্বিত নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে এই দ্বৈত পরিস্থিতির সমাধান করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
